আখতারুজ্জামান এক মাস পর কারামুক্ত

কারা ফটকে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা। ছবি : আগামীর সময়
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, কর্মকর্তাকে হুমকি ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। এক মাস পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।
মুক্তির পর কারা ফটকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ও সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, ঢাকা জেলা আমির দেলোয়ার হোসেন, ঢাকা দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ও সংসদ সদস্য কামাল হোসেন, সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার এবং আইনজীবী রুকন রেজাসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন আখতারুজ্জামান, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, মোবারক হোসেন ও শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
গত ২ অক্টোবর ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি নিয়ে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হন আখতারুজ্জামান। পরে আদালতের নির্দেশে এক দিনের রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গত ৪ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। পরে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করলে গত রবিবার (১ নভেম্বর) তাকে জামিন দেন হাইকোর্ট।
তবে রাষ্ট্রপক্ষ ওই জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে। এরপর গতকাল সোমবার (২ নভেম্বর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক জামিন বহাল রেখে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর মদিনা থেকে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় ফেরেন। বিমানবন্দরে লাগেজ সংগ্রহের সময় ট্রলি সংকট ও দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হলে এ নিয়ে তৈরি হয় হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা। এ ঘটনায় বিমানবন্দরের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা করেন।
দেশের রাজনীতিতে নানাভাবে আলোচিত আখতারুজ্জামান। বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীতে যুক্ত থাকলেও তিনি বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন দুবার। কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
আখতারুজ্জামান এক সময় কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতিও ছিলেন। কিন্তু দলীয় শৃঙ্খলা-পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে বেশ কয়েকবার বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন তিনি।



