আমরা যেন জুলাইকে হারিয়ে না ফেলি : ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

বক্তব্য রাখছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ
‘আমরা যেন জুলাইকে হারিয়ে না ফেলি। জুলাইয়ের চেতনা যেন আমাদের হৃদয়ে ধারণ করতে পারি। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারি— এটাই হোক আমাদের আজকের অঙ্গীকার’, বলছিলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের উত্তর প্লাজার কনফারেন্স রুমে সংসদ সচিবালয় আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে তিনি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
দীর্ঘ ষোল বছর ধরে অসংখ্য মানুষ অক্লান্ত সংগ্রাম করেছেন উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলছিলেন, ‘রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। সেই আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় স্বৈরশাসনের অবসান ঘটেছে। এটি জাতির ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়, যা বাংলাদেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে গর্বের সঙ্গে স্মরণ করবে।’
একটি মুহূর্তের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, ‘আজ দুপুরে একটি অনুষ্ঠানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছি। এক মা তার অন্ধ ছেলেকে হাত ধরে মঞ্চে নিয়ে এসেছেন। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সেই তরুণ তার দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। মা সবার সামনে তাদের দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অভিযোগ ও বেদনার কথা তুলে ধরেছেন। জুলাইয়ে যারা জীবন দিয়েছেন কিংবা অঙ্গহানির শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জাতীয় সংসদ ও বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এটি কোনো স্বল্পমেয়াদি দায়িত্ব নয়; বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় অঙ্গীকার।’
সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর যেমন গৌরব ও বিজয়ের দিন, তেমনি ৫ আগস্টও গৌরব ও বিজয়ের দিন হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে। ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর আমরা বিজয় অর্জন করেছি বিদেশি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে, আর ৫ আগস্ট অর্জিত হয়েছে দেশীয় ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাভূত করার মাধ্যমে।’
তিনি মন্তব্য করেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পায়নি। ফলে স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল থেকে জনগণ বহুবার বঞ্চিত হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন জাতিকে আর সেই পথে হাঁটতে না হয়, সে জন্য ধৈর্য, সহনশীলতা এবং পরিশীলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
প্রকৃত সংস্কার মানুষের মনোজগতে হতে হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, মনোজগতের পরিবর্তন না হলে শুধু আইন বা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার ও মেরামতের সূচনা হতে হবে সংবিধান থেকে, যা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশের জনগণের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের ফসল এবং এর মাধ্যমেই বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সেই স্বাধীনতার গণতান্ত্রিক ভিত্তি সুসংহত করার নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে।
জুলাই বিপ্লবের সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি। বলেন, বিগত মাফিয়া সরকার দেশের বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করেছে, মানুষের বাগস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার হরণ করেছে এবং আয়নাঘর, গুম, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের মাধ্যমে ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছিল। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন চিফ হুইপ।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম, সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।







