বিএনপিতে আসছে আরও পরিবর্তন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হলেন নতুন চার নেতা। তারা হলেন রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার ও ইসমাইল জবিউল্লাহ। গত বৃহস্পতিবার মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী করার পর শোনা যাচ্ছিল বিএনপিতে নানা পরিবর্তনের কথা। সেই সময়ই দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে যুক্ত করা হলো নতুন চার নেতাকে। দলটির বেশ কয়েকটি সূত্র আগামীর সময়কে জানিয়েছে, শিগগির দলের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে আসবে পরিবর্তন।
গতকাল শনিবার বিকালে বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেনের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চার নেতাকে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। বিএনপি আশা করে যে, চার নেতা তাদের মেধা ও বিচক্ষণতা ও সুচিন্তিত পরামর্শের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে দল ও জনগণের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবদান রাখবেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন কমিটির নতুন সদস্য আমান উল্লাহ আমান। আগামীর সময়কে তিনি বললেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারেক রহমানের নির্দেশনা ও নেতৃত্বে নিরলসভাবে কাজ করে যাব।’
‘বিএনপি চেয়ারম্যান নতুন করে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, সেটি যেমন সততার সঙ্গে পালন করব, একই সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি তারেক রহমানের যে প্রত্যাশা, সে প্রত্যাশা পূরণেও কাজ করে যাব’— যোগ করলেন আমান।
বিএনপির সর্বশেষ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। ওই কাউন্সিলের পর জাতীয় স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। পরে সদস্যদের মৃত্যু, পদত্যাগসহ বিভিন্ন কারণে কমিটির কয়েকটি পদ শূন্য হয়। বিভিন্ন সময়ে এসব পদে নতুন সদস্য যুক্ত করেছে দলটি। ১৯ সদস্যবিশিষ্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে আগে থেকে ১৩ জন রয়েছেন। তারা হলেন তারেক রহমান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
তাদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলামকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে। তার প্রার্থিতা ঘোষণার পর গত বৃহস্পতিবার মহাসচিব, স্থায়ী কমিটিসহ দলীয় সব পদ ছেড়ে দিয়েছেন। এ অবস্থায় গতকাল একসঙ্গে নতুন চার সদস্য যুক্ত হওয়ায় এখন স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। তবে এখনো তিনটি পদ শূন্য রয়েছে। বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এগুলোও পূরণের চিন্তা করছেন।
বিএনপির গঠনতন্ত্রে চেয়ারম্যানের কর্তব্য, ক্ষমতা ও দায়িত্বের ৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান জাতীয় স্থায়ী কমিটি, জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং বিষয়ভিত্তিক উপকমিটিগুলোর শূন্যপদ পূরণ করতে পারবেন।
জানা গেল, নতুন চারজনের সবাইকেই পদোন্নতি দিয়ে দলের সর্বোচ্চ নীিতনির্ধারণী ফোরামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছিলেন। দলের ষষ্ঠ কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে তিনি এই পদে নির্বাচিত হন। দলীয় পদের পাশাপাশি মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন রিজভী।
অন্যদিকে আমান উল্লাহ আমান, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও ইসমাইল জবিউল্লাহ ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। আমান এর আগে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক এবং ডোনার একই সাংগঠনিক ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ইসমাইল জবিউল্লাহ বর্তমানে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রুহুল কবির রিজভী স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়ার পর এখন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব কে হবেন, সেটি নিয়ে বিএনপিতে শুরু হয়েছে আলোচনা। সেক্ষেত্রে দলের তৃতীয় সর্বোচ্চ এই সাংগঠনিক পদে আলোচনায় রয়েছেন দুজন নেতা। তারা হলেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী-খান সোহেল ও শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। এ্যানি সরকারে পানিসম্পদমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রিজভীর আগে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হয়েছিলেন তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুল ইসলাম।
সোহেল ও এ্যানির মধ্যে থেকে কাউকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হলে সেক্ষেত্রে জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে আরও একটি যুগ্ম মহাসচিবের পদ খালি হতে পারে। যুগ্ম মহাসচিবের সাতটি পদের মধ্যে বর্তমানে একটি পদ খালি রয়েছে। সেক্ষেত্রে সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্য থেকে কেউ যুগ্ম মহাসচিব হতে পারেন অথবা নতুন কাউকে এই পদে মনোনীত করা হতে পারে।
অন্যদিকে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ায় দলের মহাসচিব কে হবেন অথবা ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে কে আসবেন, সেটি নিয়েও দলের ভেতরে নানান আলোচনা আছে। বিএনপি নেতারা বলছেন, দলের আগামী জাতীয় কাউন্সিলে মহাসচিব নির্বাচিত হতে পারেন, অথবা দলের চেয়ারম্যান চাইলে তিনি কাউকে মহাসচিব মনোনীতও করতে পারেন। দলের গঠনতন্ত্রে চেয়ারম্যানকে সেই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আলোচনা আছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মহাসচিব হিসেবে চেয়ারম্যান কাউকে মনোনীতও করতে পারেন। তবে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে কাউকে ভারপ্রাপ্ত করার। সেক্ষেত্রে রিজভীকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হতে পারে।
সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দলের দপ্তরের দায়িত্বও পালন করছিলেন রিজভী। বিএনপি নেতারা বলছেন, এখন স্থায়ী কমিটির সঙ্গে রিজভীকে আগামীতে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হলে তখন দপ্তরেও নতুন কেউ দায়িত্বে আসতে পারেন। সেক্ষেত্রে দলের বর্তমান যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন কিংবা নির্বাহী কমিটির সদস্য (সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক) আব্দুল লতিফ জনির মধ্যে কাউকে এই দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এর আগে রিজভী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে এমরান সালেহ প্রিন্স দুই দফায় দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রিন্স বর্তমানে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
বিএনপির গঠনতন্ত্রে বলা হয়েছে, জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে একজন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব (দপ্তরের দায়িত্বে) থাকবেন। আবার আলাদাভাবে একজন দপ্তর সম্পাদকের কথাও বলা আছে গঠনতন্ত্রে।






