রিজভী
তারেক রহমানের জন-আস্থা টলাতে পারছে না প্রতিপক্ষ

ছবি: আগামীর সময়
বিএনপির প্রতি জনগণের মধ্যে যে আস্থা তৈরি হয়েছে, তাতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা ঈর্ষান্বিত হয়ে নানা বিদ্রুপ ও অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেছেন, ‘বিএনপির জনপ্রিয়তা ও জনসম্পৃক্ততা বাড়তে থাকায় একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে বিভিন্ন বক্তব্য বিকৃত করার চেষ্টা করছে। জনগণের সমর্থনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং বিভ্রান্তি ছড়াতে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নানা মন্তব্য করা হচ্ছে। তবে এসব অপচেষ্টা বিএনপির গণভিত্তিকে দুর্বল করতে পারবে না ‘
আজ সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন তিনি।
রিজভী বলেছেন, ‘নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নানা ধরনের কথা বলছেন, এটিকে বিকৃত করার জন্য কথা বলছেন। কিন্তু তারেক রহমানকে নিয়ে জনগণের মধ্যে যে আশার আলো ও আস্থার তৈরি হয়েছে, সেটাকে তারা থামাতে পারছে না।’
তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং আগামী দিনে হেলথ কার্ড করবেন। সেই প্রতিশ্রুতিসহ ইতোমধ্যে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছেন এবং ব্যাপকভাবে সারা দেশে সাড়া পাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, তার বাবার পথ ধরেই তিনি আবারও এই দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। আবারও খাল কাটা কর্মসূচি তিনি চালু করেছেন এবং ইতোমধ্যেই এটি সারা বাংলাদেশে সাড়া ফেলেছে। যেখানেই যাচ্ছেন, তিনি খাল কাটা কর্মসূচি পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছেন।’
‘প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং পূরণ করার মধ্যে আগে এ দেশে যে বড় ঘাটতি দেখা গিয়েছিল—বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াতে পারেনি, ঘরে ঘরে চাকরি দিতে পারেনি, বিনামূল্যে সার দিতে পারেনি কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের নেতা তারেক রহমান ততটুকুই বলেছেন, যতটুকু কাজ জনকল্যাণে আমাদের এই সোসিও-ইকোনোমিক কন্ডিশনে সম্পাদন করা সম্ভব।’—যোগ করেন তিনি।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেছেন, ‘ক্ষণজন্মা যুগপুরুষ জিয়াউর রহমান দেশের এক ক্রান্তিকালে এ দেশের রাজনীতি এবং রাষ্ট্রক্ষমতার পথপ্রদর্শকের আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছিলেন। তার পূর্বে গণতন্ত্র হত্যা হয়েছিল, এক চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং দেশ দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে নিপতিত হয়েছিল। সর্বত্র চলছিল ভয়ঙ্কর রকমের রক্তপাত, সহিংসতা ও খুনোখুনি।’
‘স্বাধীনতা-উত্তর সেই ক্রান্তিকাল অতিক্রমের এক পর্যায়ে জনগণ এবং সিপাহীরা যৌথভাবে দেশে এক শান্তিময় পরিবেশ তৈরির প্রত্যয় নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতিকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করে এবং জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন। তার যে সাফল্য, তা আজও ইতিহাসের পাতায় একটি উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে লিখিত আছে। এ দেশের দল-মত নির্বিশেষে তার আমলের স্বস্তি, শান্তি, আইনের শাসন ফিরিয়ে নিয়ে আসা এবং দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি যে যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছিলেন, তা আজও মানুষের মনে অম্লান হয়ে আছে, মানুষের মনে আজও গেঁথে আছে।'
‘আরেকটি দিক হচ্ছে বহুদলীয় গণতন্ত্র। যে গণতন্ত্রকে ধারালো তরবারির মধ্য দিয়ে ১৯৭৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি হত্যা করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বাকশাল গঠন করেছিল, সেই মৃত গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করলেন জিয়াউর রহমান।’
‘তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলেন, অনেক দল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করল এবং প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে কথা বলা শুরু করল। তাই এই মহান মানুষটির অবদান আজ ভুলে যাওয়ার নয়।’




