ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক চর্চা বজায় রাখতে সজাগ থাকুন

জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, সব গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা এবং সম্প্রতি ঢাকা কলেজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় ছাত্র গণজমায়েত করেছে ছাত্রশিবির। ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে গণজমায়েত করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির।
আজ বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ শেষে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান নেন। এ সময় ছাত্রদল ও বিএনপির বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন শিবির নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও যুবদল সহিংসতা এবং দখলদারিত্বের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। টেন্ডার ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এসব ঘটনার সূত্রপাত।
শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ অভিযোগ করেন, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির সুযোগ না পেয়ে ছাত্রদল বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সহিংসতায় জড়িয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে সুবিধা না পাওয়ায় তারা হামলার পথ বেছে নিয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ছাত্রদল ৯০-এর দশকের মতো আবাসিক হল দখলের চেষ্টা করছে এবং ছাত্রসংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের পর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে ফরহাদ বললেন, ‘আপনি ছাত্রদলকে নিয়ন্ত্রণ করুন। প্রয়োজনে নীরবে ১০ শতাংশ দিয়ে দেন, আল্লাহর ওয়াস্তে কারও চোখ তুলে নিতে দেবেন না। ছাত্রলীগের অপকর্ম যেমন শেখ হাসিনার পতনের কারণ হয়েছিল, তেমনি ছাত্রদলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডও আপনার সরকারের পতনের কারণ হতে পারে।’
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলছেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের সময় শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করেছিল। এখন ছাত্রদল আবারও ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সাদিক কায়েম জানান, জুলাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন খাতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করেন এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক চর্চা বজায় রাখতে ছাত্রসমাজকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান সাদিক কায়েম।
শিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও পথচারীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।’
তার অভিযোগ, হাসপাতালে ঢুকে হামলার ঘটনাও ঘটেছে এবং এতে ছাত্রদলের সম্পৃক্ততা রয়েছে। হামলায় জড়িত অনেকেরই ছাত্রত্ব বহু আগেই শেষ হয়েছে। ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্প প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম দাবি করেন, প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সহিংসতা সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি জানান, প্রকল্পটি সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হলেও তা মানা হয়নি। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে হামলা চালালেও পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি এবং তারা প্রশাসনের প্রশ্রয় পাচ্ছে।





