ঢাকা-১১ আসনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে: এম এ কাইয়ুম

সংগৃহীত ছবি
ঢাকা-১১ আসনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগ তুলে পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুম। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুদারাঘাটে অবস্থিত তার নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
এম এ কাইয়ুম দাবি করেন, এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামকে জেতানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে তাকে হারানো হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
তার অভিযোগ আমলে নিয়ে ব্যবস্থা না নিলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, “বছরের পর বছর অন্যায় ও ভোটাধিকার হরণের পর জনগণ যখন তাদের ন্যায়সংগত ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে, তখনই কিছু মহল ‘জুলাইযোদ্ধা’ নাম দিয়ে নতুন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। যারা এজেন্ট দেওয়ার মতো মানুষ পায় না, তাদের হাজার হাজার ভোট কোথা থেকে এলো।”
কাইয়ুম বলেন, ‘আমরা রিকাউন্ট চাই এবং প্রশাসনিক দুর্নীতি ও কুপ্রশাসনের অবসান চাই।
বাংলাদেশ থেকে ভোট চুরির সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতে হবে। আমি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই চালিয়ে যাব, মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কাউকে দেব না।’
তিনি অভিযোগ করেন, যেনতেনভাবে মানুষের ভোটাধিকার হরণ করার ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে। গতকালও বিভিন্ন স্থানে আমার সমর্থকদের ওপর হামলা হয়েছে।
আমরা ধৈর্য ধরতে চাই, কারণ যে কোনো শয়তানি ষড়যন্ত্রের শেষ আছে। কিন্তু মিথ্যাচার ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। বহু বছর পর জনগণ যে গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেয়েছে, তার সঙ্গে আবার কেউ যেন খেলতে না পারে, আমরা সেই ব্যবস্থাই নেব।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে তিনি ৫০ থেকে ৬০ হাজার লোক নিয়ে মিছিল করেছেন, যা সবাই দেখেছে। অথচ যে ব্যক্তি নিজে মিছিল করতে পারেননি, সে এখন নানা অপপ্রচার ও মিথ্যাচার ছড়াচ্ছে’ বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা কোনো উত্তর দিইনি, কারণ মানুষই আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে আমরা এগিয়ে ছিলাম। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো পরিকল্পিত সহিংসতা হয়নি; বরং অত্যাচার করেছে প্রতিপক্ষ, যার ভিডিও-প্রমাণও রয়েছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘প্রতিপক্ষ প্রার্থী জুলাই আন্দোলনের সময় ডিবি অফিসে বসে আন্দোলন থেকে সরে গিয়েছিলেন এবং এখন ক্ষমতার লোভে স্বাধীনতাবিরোধী মহলের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।’
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এম এ কাইয়ুম বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর অন্যায়ভাবে হাত উঠলে আইনি জবাব দেওয়া হবে। আমাদের দল রাষ্ট্রক্ষমতায় গেছে এবং তারেক রহমান আমাদের নেতা, এটাই আমাদের প্রাপ্তি। আমরা মানুষের জন্য কাজ করব, কাউকে দোষারোপ করব না।’
সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এম এ কাইয়ুম বলেন, ‘নির্বাচনী সময়জুড়ে আপনারা সহযোগিতা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও আপনাদের মাধ্যমে দেশ ও বিশ্বকে জানানো হবে পরবর্তী কার্যক্রম।’
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, এই নির্বাচনেও কারচুপি, ষড়যন্ত্র এবং ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। ইউনূস কয়েকদিন আগেই বলে দিয়েছিল জুলাইযোদ্ধারা এমপি-মন্ত্রী হবে। সেটাই তারা করেছে, নির্বাচনের নামে জনগণের অধিকার হরণ করে নাটক সাজিয়েছে। এই নাটক বন্ধ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আগামী দিনে এই ভোটচোরদের অপকর্মের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’
সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন তার নির্বাচনী কার্যালয়ের বাইরে উপস্থিত বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীকে সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা যায়।



