চীন সফর শেষে ফিরলেন বিএনপির তরুণ নেতারা, কার কি অভিজ্ঞতা

সংগৃহীত ছবি
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে ১০ দিনের সফর শেষে গত সোমবার দেশে ফিরেছেন বিএনপির ২০ সদস্যের তরুণ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
দীর্ঘ এই সফরে চীনের উন্নয়ন, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা কী দেখলেন এবং জানলেন, তা নিয়ে তাদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে আগামীর সময়।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, এই সফরে তারা চীনের ঐতিহাসিক শহর চংকিং এবং আধুনিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র সাংহাইয়ের ৩৫টি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পরিদর্শন করেন। সেখানে তারা চীনের উৎপাদনশীল শক্তির বিকাশ, আধুনিক উন্নয়ন কৌশল, উচ্চপর্যায়ের অর্থনৈতিক উন্মুক্তকরণ, গ্রামীণ পুনরুজ্জীবন এবং তৃণমূল পর্যায়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
সফরের অংশ হিসেবে বিএনপির তরুণ নেতারা চীনের স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সমাজবিজ্ঞানী, গবেষক এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিভিন্ন থিংক ট্যাংকের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ১০টিরও বেশি মতবিনিময় সভা ও সেমিনারে অংশ নেন।
এসব বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক, রাজনৈতিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং তরুণ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রতিনিধি দলের সদস্য ও ছাত্রদল নেতা তানভীর বারী হামিম বলেছেন, ‘বিভিন্ন থিংক ট্যাংকের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিএনপির পক্ষ থেকে আমি আলোচক হিসেবে ছিলাম। সেখানে বাংলাদেশের তরুণরা কী ভূমিকা রাখছে তা আমি তুলে ধরেছি।’
চংকিং প্রদেশের উন্নয়ন সম্পর্কে তিনি জানান, সেখানে পাহাড় কেটে তার ঢালুতে বাড়িসহ নানা স্থাপনা বানানো দেখে অভিভূত হয়েছি। পুরো বিশ্বের সাথে এই চংচিংকে কীভাবে সংযুক্ত করা হচ্ছে, তা সত্যিই দেখার মতো বিষয়।
প্রতিনিধি দলের আন্তর্জাতিক বিমান ভাড়া, স্থানীয় আবাসন, খাবার এবং অভ্যন্তরীণ যাতায়াতসহ সফরের যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করেছে চীন সরকার। দুই দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করা এবং চীনের উন্নয়নের অভিজ্ঞতা থেকে জ্ঞান ও ধারণা বিনিময় করাই ছিল এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।
প্রতিনিধি দলের আরেক সদস্য ও ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘তাদের (চীনের) সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে আমাদের কাছাকাছি নিয়ে আসার জন্যেই মূলত এই সুযোগ দিয়েছে চীন সরকার।
আবিদুল ইসলাম খান জানান, চংকিং প্রদেশকে কীভাবে একটি অনুন্নত জায়গা থেকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং সাংহাই প্রদেশকে কীভাবে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়েছে, তা স্বচক্ষে অবলোকন করার সুযোগ পেয়েছেন তারা।
২০ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলে ৬ জন নারী সদস্য ছিলেন। তারা চীনের বিভিন্ন স্থাপনা, উদ্ভাবন এবং নিয়ম-কানুনের কঠোরতার প্রশংসা করেন। বিশেষ করে, নেতৃত্বের জায়গায় নারীদের সমতা ও নিরাপত্তার বিষয়টি তাদের দৃষ্টি কেড়েছে।
প্রতিনিধি দলের সদস্য ও ছাত্রদল নেত্রী জন্নাতুল নওরীন উর্মি বলেছেন, ‘আমাদের দেশসহ আশপাশের অনেক দেশে নারীদের চলাফেরা, পোশাক, নিরাপত্তা ও কর্মক্ষেত্রে স্বাধীনতা নিয়ে এখনো নানা সামাজিক স্টিগমা বা প্রতিবন্ধকতা কাজ করে। কিন্তু চীনে সেই বাধাগুলো তুলনামূলক অনেক কম। ওখানকার নারীরা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী, স্বাধীনভাবে চলাফেরা করে এবং অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করে।’
‘আইটি ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষায় তারা আমাদের দেশের তুলনায় অনেক এগিয়ে। এই অগ্রগতির কারণেই নারীরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও নেতৃত্বমূলক অবস্থানে জায়গা করে নিতে পারছে এবং দক্ষতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিচ্ছে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারী-পুরুষের সমতা এখানে স্পষ্টভাবে দেখা যায়’, বলছিলেন ছাত্রদলের এই নারা নেত্রী।
সফরকালে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন কিনা জানতে চাইলে ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘মূলত খাবার সমস্যাই ছিল প্রধান। চীন সরকার অনেক খাবারের আইটেম আয়োজন করেছিল। কিন্তু সেই খাবার ঠিকমতো খাওয়া আমাদের জন্য অনেক কষ্টের ছিল।’




