ভাইরাল প্রার্থীদের ভোটের হিসাব

সংগৃহীত ছবি
শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বেসরকারিভাবে বেশির ভাগ আসনের ফলও প্রকাশিত হচ্ছে। প্রচারপর্ব থেকে শুরু করে ভোটের দিন পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মাঠের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন কয়েকজন প্রার্থী। কারও বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে, কারও কর্মকাণ্ড ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। তবে প্রাথমিক ফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আলোচনায় থাকলেও তাঁদের অনেকেই ব্যালটে প্রত্যাশিত সাফল্য পাননি; আবার কেউ কেউ জয়ের হাসিও হেসেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা ছিলেন আলোচিতদের একজন। বিএনপির সাবেক এই নেত্রী দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পর নতুন করে আলোচনায় আসেন। প্রচারের সময় এক সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডার ভিডিও ভাইরাল হয়ে সমালোচনার জন্ম দেয়। তবে সব বিতর্ক ছাপিয়ে বেসরকারি ফলে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন তিনি। ১৫১ কেন্দ্রে তাঁর প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৫; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এগিয়ে ৩৭ হাজার ৫৬৮ ভোটে।
কুমিল্লা–৪ আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহও বড় জয় পেয়েছেন। ১১৬টি কেন্দ্রের সব কটিতেই জয়ী হয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গণ–অধিকার পরিষদের জসীমউদ্দীন পেয়েছেন ২৬ হাজার ভোট।
ঢাকা–৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা চিকিৎসক তাসনিম জারা আলোচনায় ছিলেন পরিচ্ছন্ন প্রচার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তার কারণে। নির্বাচনে অংশ নিতে দুই দিনে পাঁচ হাজার ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেও আলোচিত হন তিনি। তবে বেসরকারি ফলে ফুটবল প্রতীকে ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন।
খুলনা–১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে আলোচনায় ছিলেন। তবে ভোটের ফলাফলে তিনি পিছিয়ে পড়েন। পেয়েছেন ৭০ হাজার ৩৪৬ ভোট। বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী আমির এজাজ খান পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৩৫২ ভোট; ব্যবধান ৫১ হাজার ৬।
ঢাকা–৮ আসনে ১১–দলীয় ঐক্যের নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও ছিলেন আলোচনায়। নানা বক্তব্য ও বিতর্ক তাঁকে আলোচিত করলেও ফলাফলে তিনি হেরে গেছেন অল্প ব্যবধানে। বিএনপির মির্জা আব্বাস মোট ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট।
নোয়াখালী–৬ আসনে ১১–দলীয় ঐক্যের আরেক প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৯৯ ভোট; তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মাহবুবের রহমান শামীম পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২১ ভোট।
বরিশাল–৫ আসনে বাসদের মনীষা চক্রবর্তী নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে শ্রমজীবীদের কাছ থেকে মাটির ব্যাংকে অর্থ সংগ্রহ করে আলোচনায় ছিলেন। তবে বেসরকারি ফলে ২১ হাজারের কিছু বেশি ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন তিনি।
ঢাকা–১৭ আসনে ‘তারেক রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী’ হিসেবে আলোচিত জামায়াতে ইসলামীর এস এম খালিদুজ্জামান শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৩০০ ভোট। বিজয়ী তারেক রহমান পেয়েছেন ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট।
সূত্র: প্রথম আলো ।



