আ.লীগ নিয়ে অতিরিক্ত মাতামাতি বুমেরাং হতে পারে : সাইফুল হক

ছবি: আগামীর সময়
পতিত আওয়ামী লীগকে নিয়ে অতিরিক্ত মাতামাতি ও টানাটানি দেশের রাজনীতিতে উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগকে আবারও দেশের রাজনীতির নিয়ামক শক্তি করে তোলা হচ্ছে কি না, তা ভেবে দেখা দরকার। অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক উত্তরণের সম্ভাবনা কোনো হটকারিতা বা ষড়যন্ত্রের ফাঁদে নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।
শুক্রবার বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির দুই দিনব্যাপী সভার প্রথম অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।
সাইফুল হক বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে সংসদের ভেতরে ও বাইরে আর্থসামাজিক কর্মসূচি এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক করতে দেখা যায় না। তারা এখনো দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া এবং আলোচনায় আসার জন্য দোষারোপের পুরনো রাজনীতিতে বন্দি হয়ে আছে।
‘দেড় দশকের ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান রাজনীতিকদের অধিকাংশের মানসিকতায় তেমন কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। এ কারণে প্রত্যাখ্যাত পুরনো রাজনীতির বৃত্তেই তারা আটকে আছেন’—যোগ করেন তিনি।
দেশব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান সাইফুল হক। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব, তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। তবে দেশ জুড়ে মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকাও বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
সাইফুল হকের দাবি, গত এক বছরে নতুন করে এক কোটি ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে এসেছে। আরও কয়েক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
তিনি বলেন, জনকল্যাণে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিলেও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে সেগুলোর সুফল এখনো পৌঁছায়নি। এ বিষয়ে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মানুষ সরকারকে হয়তো আরও কিছু সময় দেবে, তবে সেই সময় অনির্দিষ্ট নয়।
সভায় সাধারণ সম্পাদকের উত্থাপিত প্রতিবেদনের ওপর বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, আবু হাসান টিপু, মীর মোফাজ্জল হোসেন, মোশতাক মাহমুদ, রাশিদা বেগম, অ্যাডভোকেট মাহবুবুল করিম টিপু, সজীব সরকার রতন, সাইফুল ইসলাম, স্নিগ্ধা সুলতানা ইভা, সাইফুর রেজা মামুন, মীর রেজাউল আলম, ফিরোজ আলী, আওয়াল মাহমুদ, জামাল সিকদার, আবুল কালাম আজাদ, আইয়ুব আলী ও মোহাম্মদ স্বাধীন মিয়া প্রমুখ।




