আগামীর চোখ
মৃতদের আলাদা কমিটি হোক!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর,
মহাসচিব, বিএনপি
আপনাকে এই পত্রটি লিখছি এক নিভৃত কবরস্থান থেকে। এখানে আলো পৌঁছায় না, রাজনীতির কোনো কোলাহল নেই, দেয়ালেও পোস্টার পড়ে না। তবে মাঝে মাঝে আমরা ভোট দিয়ে আসি। না মানে, জীবিতরা আমাদের নামে ভোটের সিলটা মেরে দেন আর কি। এ ছাড়া দলের কমিটিতে নামও উঠে যায়। সম্প্রতি বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির কমিটিতে আমাদের সোসাইটির একজনের নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। সত্যি বলতে, এসব বিষয়ে কখনো আমাদের সম্মতি ছিল না। কিন্তু বরিশালের কমিটি দেখে একটি বিষয় মাথায় এলো। জীবিত থাকতে জানপ্রাণ দিয়ে দলের রাজনীতি করেছি, এখন যেহেতু সাবেক কর্মী হিসেবে কবরে স্থায়ী বসবাস করছি, তাই একটি কবরস্থান কমিটি তো দলের কাছে চাইতেই পারি!
এ সিদ্ধান্ত আমরা নিতাম না। পৃথিবীর সব ঝামেলা থেকে মুক্তি পেয়েছি। সেধে ঝামেলা কাঁধে নেওয়া কারই বা ভালো লাগে! কিন্তু জীবিত নেতারা মৃতদের নিয়ে যা শুরু করল, তাতে আমরা বেশ বিব্রতই হচ্ছিলাম আর কি। তা ছাড়া কমিটিতে কাজও করা যাচ্ছিল না। তাই মৃতদের একটা বিশেষ সভা ডেকে কমিটির বিষয়টি প্রাথমিকভাবে পাকা করেছি। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আপনাকে চিঠি লেখা হবে। দািয়ত্বটা আমার কাঁধেই দিয়েছে সবাই মিলে। বয়স কম হলে যা হয় আর কি। তবে এটা নিশ্চিত থাকতে পারেন যে, আমাদের কমিটি ঘোষণা করলে কোনো গ্রুপিং পলিটিকস হবে না। সোসাইটি ভীষণ স্ট্রং। যাদের দায়িত্ব দেবেন, তাদের সবাই চোখ বন্ধ করে মেনে নেবে। আসলে রাজনীতিতে জীবিতদের কোন্দল দেখে সবাই ক্লান্ত।
তবে কমিটি গঠনের সময় খেয়াল রাখবেন, কোনো জীবিত ব্যক্তি যেন ঢুকে পড়তে না পারে। যদি ঢুকে যায়, তাহলে একাই পুরো কমিটিকে কবজা করে নেবে। তারপর আমাদের জায়গায় ভাই, চাচাতো ভাই, ফুফাতো ভাই সবাইকে নিয়ে চলে আসবে। মাঝখান থেকে আমাদের নাম খারাপ হবে। আসলে জীবিত নেতাকর্মীরা আমাদের সোসাইটির নিয়মকানুন ও শৃঙ্খলার বিষয়গুলো সম্পর্কে কোনো ধারণাই রাখে না। তাই এদিকটা একটু খেয়াল রাখবেন।
আরেকটা বিষয়, জীবিত নেতাকর্মীদের একটু লাইনে আনুন। মানে শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতার বিষয়ে একটু ক্লাস নিন। কোন্দল, মারামারিসহ আরও যা যা শুরু করেছে, তাতে আপনারাই না আবার বিব্রত হতে শুরু করেন। এখন তো আপাতত আমাদের ওপর দিয়ে যাচ্ছে। তাই বলছিলাম, যদি দ্রুত কবরস্থান কমিটিটা ঘোষণা করেন আমরা মানসম্মান নিয়ে টিকে যাই।
ইতি
মৃত কর্মীদের একজন




