আগামীর চোখ
জুতারও নিরাপত্তা প্রটোকল!

প্রিয়
শিক্ষানবিশ চোর
বাংলাদেশের প্রায় সব মাজার-মসজিদেই লেখা থাকে, ‘জুতা চো-র হইতে সাবধান।’ এই সতর্কবাণীকে কখনো হালকাভাবে নেবে না। জুতা চুরি আর জুতার মালিক চেনা— দুইটা সম্পূর্ণ আলাদা বিদ্যা। প্রথমটি হাতের কারসাজি, দ্বিতীয়টি মাথার। মাথা খাটাতে না জানলে একজোড়া জুতা চুরি করতে গিয়ে গোটা প্রশাসনের ঘুম হারাম করে দিতে পারো।
সিলেটের শাহজালাল (রহ.) মাজারের ঘটনা থেকে শিক্ষা নাও। জেলা প্রশাসকের জুতা বলে কথা! সাধারণ মানুষের জুতা হলে মালিক হয়তো খালি পায়ে বাড়ি ফিরতেন, বড়জোর গালমন্দ করতেন; কিন্তু ডিসির জুতা নিখোঁজ হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে। পরে জানা গেল, জুতা চুরি হয়নি; নিরাপদে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। অর্থাৎ জুতারও নিরাপত্তা প্রটোকল আছে।
তোমাকে প্রথম পরামর্শ, চুরির আগে জুতার মালিক সম্পর্কে ধারণা নেবে। জুতার ব্র্যান্ড, সাইজ, রঙের চেয়েও জরুরি তার পদমর্যাদা। সাধারণ নাগরিকের জুতা আর ভিআইপির জুতার মধ্যে বস্তুগত পার্থক্য সামান্য, প্রশাসনিক পার্থক্য আকাশ-পাতাল। ভুল করে ডিসি, এসপি, এমপি কিংবা মন্ত্রীর জুতায় হাত দিলে বুঝবে, তুমি আর জুতা চুরি করোনি; রাষ্ট্রের নিরাপত্তাব্যবস্থার পরীক্ষা নিয়ে বসেছ।
জুতা বগলে নিয়ে চলাফেরাকে আমরা ঐতিহ্য ঘোষণা করতে পারি
দ্বিতীয়ত, চুরির পর যদি জানতে পারো, ভুল জুতা তুলে ফেলেছ, তাহলে আবেগের বশে পালাবে না। জুতাজোড়া অক্ষত রেখে নিরাপদে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাবে। জুতার দাম যতই হোক, তার পেছনে রাষ্ট্রীয় সময়ের দাম আরও বেশি।
এবার আসল বিপদটা বোঝো। ডিসির মতো ভিআইপির জুতা যদি নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেদ করে নিখোঁজ হতে পারে, তাহলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা লোকজনের জুতা কি নিরাপদ? কাল দেখা যাবে, ডিসি-এসপি থেকে এমপি-মন্ত্রী পর্যন্ত সবাই জুতা বগলে নিয়ে সভা-সমাবেশে যাচ্ছেন। বিদেশি রাষ্ট্রীয় অতিথিরাও বিমানবন্দরে নেমে জুতা পায়ে না দিয়ে বগলদাবা করে হাঁটছেন। তখন সেটা আর জুতা হারানোর ঘটনা থাকবে না, হয়ে উঠবে কূটনৈতিক ডিজাস্টার।
অবশ্য আমাদের দেশে সব বিপর্যয়েরই একটা সাংস্কৃতিক সমাধান আছে। জুতা বগলে নিয়ে চলাফেরাকে আমরা ঐতিহ্য ঘোষণা করতে পারি। সাধারণ মানুষ তো এমনিতেই নিরাপত্তাহীন; এবার থেকে তারাও জুতা বগলে রাখবেন। ভিআইপি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বৈষম্য কমবে, অন্তত জুতার প্রশ্নে।
শেষ কথা, শিক্ষানবিশ, জুতা চুরি করতে গিয়ে রাষ্ট্রকে জুতা খুলতে বাধ্য কোরো না। মনে রেখো, জুতার নিরাপত্তা দিতে গিয়ে রাষ্ট্রের সম্মান বগলদাবা হয়ে গেলে, সে দায় আর কোনো চোরের একার থাকে না।
ইতি
তোমার শুভাকাঙ্ক্ষী
একজন অভিজ্ঞ চোর



