আগামীর চোখ
জাতীয় লজ্জা যেন না হই

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
বাণিজ্যমন্ত্রী
দেশের জাতীয় ফল হিসেবে জাতীয় অর্থনীতিতে একটু অবদান রাখার সুযোগ পাব জেনে আনন্দে অামার ভেতরের কোয়াগুলো রসে টইটম্বুর হয়ে েগছে। চীনের সরকার ও আমাদের সরকার বাহাদুর উভয়ই সম্মত হয়েছেন আমাকে চীনে রপ্তানি করার ব্যাপারে।
হ্যাঁ, অামি সেই কাঁঠাল, যাকে নিয়ে ছোটবেলায় ছড়া পড়েছেন, গরমের দিনে ম-ম গন্ধে পাড়া-মহল্লা মাতোয়ারা করেছি; আমাকে একবার কাটলেই হাতে-পায়ে আঠা জড়িয়ে কত দুষ্টুমি করেছি।
আমার ভাগ্য সুপ্রসন্ন বলতে হয়। আমাকে চীনে রপ্তানি করা হবে। এতদিন আমাকে শুধু জাতীয় ফল বলা হতো; এবার যদি সত্যিই বিদেশি মুদ্রা আয়ের অংশীদার হতে পারি, তাহলে জাতীয় ফলের মর্যাদাটা একটু কাজে লাগবে বৈকি!
মহোদয়, আপনি জানেন চীনের বাজার বিশাল। সেখানে যদি বাংলাদেশের কাঁঠালের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে শুধু কাঁঠাল নয়; বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষক লাভবান হবে। কৃষক তার গাছের ফলের ন্যায্য দাম পেতে পারেন। কাঁঠাল চাষে আগ্রহ বাড়তে পারে। তৈরি হতে পারে সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির নতুন কর্মসংস্থান। আমার কোয়া দিয়ে জুস, জ্যাম, চিপসসহ নানা খাদ্যপণ্য তৈরি করা সম্ভব। অর্থাৎ আমি শুধু গাছের ডালে ঝুলে থাকা ফল নই; চাইলে অর্থনীতির ডালপালাও বেশ মজবুত করতে পারি!
ভেজাল বা প্রতারণার কারণে বাংলাদেশের পণ্যের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার মাশুল দিতে হয় সৎ রপ্তানিকারক ও কৃষককে
এর মধ্যে একটু কিন্তু আছে মন্ত্রী মহোদয়! দেশে ভালো উদ্যোগের সঙ্গে কিছু ‘অতি উৎসাহী’ ব্যবসায়ী ভাইয়ের দেখা মিললেই বুকটা ধড়ফড় করে। তারা যদি আমার সঙ্গে ভেজাল, নিম্নমান, অপরিচ্ছন্ন কিংবা প্রতারণাকে প্যাকেটবন্দি করে চীনে পাঠিয়ে দেয়, তাহলে তো সর্বনাশ! তখন চীনের মানুষ বলবে, ‘ধুর, বাংলাদেশের কাঁঠাল এমন?’
পাট ও চিংড়ির কথা নিশ্চয়ই আপনার মনে আছে। রপ্তানিতে অনিয়ম, ভেজাল বা প্রতারণার কারণে বাংলাদেশের পণ্যের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার মাশুল দিতে হয় সৎ রপ্তানিকারক ও কৃষককে। একজন অসাধু ব্যবসায়ীর লোভে পুরো দেশের পণ্যের মানে প্রশ্ন উঠতে পারে। এমন হলে আমি জাতীয় ফল থেকে ‘জাতীয় লজ্জা’ হয়ে যেতে পারি!
আমার বিনীত অনুরোধ, চীনে পাঠানোর আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন, পরিচয়পত্র দেখুন, মান যাচাই করুন। আমি আসল কাঁঠাল, আমার ভেতরে কী আছে, তা পরীক্ষায় বেরিয়ে আসবে। কিন্তু আমাকে যেন কৃত্রিমভাবে পাকানো, পচা, নিম্নমানের কিংবা রোগাক্রান্ত অবস্থায় সাজিয়ে-গুছিয়ে রপ্তানি না করা হয়। শর্ত ও মান বজায় থাকলে আজ কাঁঠাল, কাল আম-লিচু, পেয়ারা— একটি পণ্যের সফল রপ্তানি অন্য পণ্যের জন্যও দরজা খুলে দিতে পারে।
ইতি
জাতীয় ফল কাঁঠাল
(বর্তমানে চীনে রপ্তানির অপেক্ষায়)




