আগামীর চোখ
ক্যাশ ইনচার্জের ক্রিয়েটিভিটি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক
সালাম গ্রহণ করবেন। আমি অগ্রণী ব্যাংকের একজন নিয়মিত গ্রাহক। জীবনভর খেটেখুটে যা আয় করেছিলাম, তা রাষ্ট্রায়ত্ত এই ব্যাংকে সুরক্ষিত থাকার ভরসাতে গচ্ছিত রেখেছিলাম। কিন্তু সম্প্রতি চট্টগ্রামের লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখায় ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার জালিয়াতির ঘটনা দেখে আমি স্তম্ভিত। জালিয়াতির অভিনবতা দেখে অবাকও হয়েছি। ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেন ব্যাংকের ভল্টে থরে থরে সাজানো এক হাজার টাকার বান্ডিলের ভেতরে ১০০ টাকার নোট রেখে দিয়েছেন কৌশলে! তাও একদিন নয়; টানা ১৪ মাস ধরে চালিয়েছেন এই নয়ছয়! আর লোপাট করা টাকায় দিয়েছেন গরুর খামার। সম্ভবত ব্যবসায় লাভ করতে পারলে টাকাটা চুপিচুপি ব্যাংকের ভল্টে রেখে দেওয়ার ইচ্ছা ছিল। হায় আফসোস! গরুগুলো বিক্রি করা হলো না তার।
ব্যাংক লুটেরাগণ যেখানে ব্যাংকের টাকা চুরি করে সুইস ব্যাংক কিংবা কানাডার বেগমপাড়ায় পাচার করে দেয়, সেখানে ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল সাহেবকে আমার খাঁটি দেশপ্রেমিক মনে হচ্ছে। তিনি অন্তত দেশের টাকা দেশেই রেখেছেন। শুধু তাই নয়, সরাসরি কৃষি অর্থনীতিতে অবদান রাখারও চেষ্টা করেছেন। ক্রিয়েটিভ মানুষ বটে! দীর্ঘ ১৪ মাস ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দেওয়া তো আর চাট্টিখানি কথা নয়! এখানে অবশ্য বিপরীত দিকেও দেখার সুযোগ রয়েছে। ঊর্ধ্বতনদের কেউ আবার তার আনঅফিসিয়াল পার্টনার ছিলেন কি না, সেটিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ঊর্ধ্বতনদের কেউ আবার তার আনঅফিসিয়াল পার্টনার ছিলেন কি না, সেটিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না
তবে যাই হোক, এই সৃষ্টিশীল প্রতিভাকে জেলে বন্দি না রেখে ব্যাংক খাতে ‘ক্রিয়েটিভ আইডিয়া’ বা এরকম কোনো নীতিমালা প্রণয়নের কাজে লাগানো যায় কি না— ভেবে দেখতে পারেন। সত্যি বলতে, আমার ইচ্ছা করছে কষ্টার্জিত সঞ্চয় ব্যাংকে জমা না রেখে তার হাতে তুলে দিই। অন্তত এটি নিশ্চিত থাকব যে টাকাটা বিদেশে পাচার হচ্ছে না, দেশের মাটিতেই আছে।
যদিও ঠাট্টা করে বলছি, তবুও উদ্বেগ প্রকাশ না করে পারছি না। বিষয়টি অত্যন্ত ভয়াবহ। প্রতিদিন লেনদেন শেষে সিস্টেমের ব্যালান্স এবং ভল্টের নগদ টাকা শতভাগ মিলিয়ে, যৌথ স্বাক্ষরে ভল্ট সিলগালা করার যে বাধ্যতামূলক বিধান রয়েছে, তা গত ১৪ মাস ধরে কীভাবে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার দৃষ্টি এড়িয়ে গেল? এটি চরম অবহেলা। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের রক্ষকরাই যদি এমন অলস ও উদাসীন থাকেন, তবে আমাদের আমানত আর কোথায় নিরাপদ? এভাবে চললে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ক্যাশবাক্স ফাঁকা হতে কিন্তু বেশি দিন সময় লাগবে না।
ইতি
একজন শঙ্কিত আমানতকারী






