Agamir Somoy E-Paper
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
রোগীর জন্য রক্ত সংগ্রহে ছোটেন আইয়ুব
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় মতামত

করপোরেট ক্লান্তি ঘুচাবে পোষা প্রাণীর সাহচর্য

মো. রুহিন হোসেন
agamir somoy
প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ১৪:৩০
করপোরেট ক্লান্তি ঘুচাবে পোষা প্রাণীর সাহচর্য

সংগৃহীত ছবি

একবিংশ শতাব্দীর এই দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্ব ও সমকালীন করপোরেটজগতের তীব্র প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ আমাদের সাফল্যের শিখরে নিয়ে গেলেও এর চরম মূল্য দিতে হচ্ছে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে। আধুনিক পেশাদার জীবন এখন আর কেবল নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টার ফ্রেমে আটকে নেই; বরং প্রযুক্তির অবিচ্ছেদ্য বন্ধন আমাদের ঠেলে দিয়েছে এক ক্লান্তিকর অলওয়েজ-অন সংস্কৃতির দিকে।

সকালের ইমেইল থেকে শুরু করে গভীর রাতের জুম মিটিং— এই নিরবচ্ছিন্ন কর্মব্যস্ততা পেশাদারদের ঠেলে দিচ্ছে চরম মানসিক অবসাদের দিকে। প্রতিনিয়ত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ আর কর্মদক্ষতা প্রমাণের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় যখন মন বিষিয়ে ওঠে, তখন যান্ত্রিক উপায়ে নয়, বরং এক চমৎকার ও মানবিক সমাধানে প্রশান্তি খুঁজছেন বর্তমান প্রজন্মের অনেক সচেতন পেশাদার। আর সেই প্রাকৃতিক নিরাময় দাতা হলো পোষা প্রাণীর নিঃস্বার্থ সাহচর্য।

গবেষণায় পাওয়া গেছে, পোষা প্রাণীর সঙ্গে সময় কাটানো কেবল একটি শৌখিনতা নয়, বরং কর্মক্ষেত্রের বহুমুখী উদ্বেগ মোকাবিলায় একটি বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি।

বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, পোষা প্রাণীর সঙ্গে আমাদের এই নিবিড় বন্ধনের মূলে রয়েছে শরীরের এক ইতিবাচক রাসায়নিক পরিবর্তন। যখন একজন ব্যক্তি তার পোষা বিড়াল, কুকুর কিংবা অন্য কোনো প্রিয় প্রাণীকে আদর করেন বা তাদের সঙ্গে খেলা করেন, তখন মানবদেহে ‘অক্সিটোসিন’ নামক এক হরমোনের নিঃসরণ ঘটে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বন্ধন সৃষ্টিকারী অণু বা লাভ হরমোন বলা হয়, যা মানসিক অবসাদের বিরুদ্ধে একটি প্রাকৃতিক ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করে। একই সময়ে, এটি শরীরের প্রধান স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা অবিশ্বাস্যভাবে কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। যেখানে অফিসের কাজের অতিরিক্ত ব্যস্ততা মানুষের রক্তচাপ এবং হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দেয়, সেখানে একটি পোষা প্রাণীর শান্ত উপস্থিতি আমাদের প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে পুনরায় শান্ত অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

‘হিউম্যান অ্যানিমেল বন্ড রিসার্চ ইনডেক্সের’ (বাবরি) এক যুগান্তকারী গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, পোষা প্রাণীর সঙ্গে কেবল ১০ মিনিট সময় কাটালে রক্তে কর্টিসলের মাত্রা এতটাই কমিয়ে দিতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির উপায় হতে পারে।

একঘেয়েমি কাটাতে পোষা প্রাণীদের ভূমিকাও অতুলনীয়। কেবল কুকুর বা বিড়াল নয়, গৃহপালিত পাখি বা ছোট ছোট অন্য প্রাণীদেরও রয়েছে বিশেষ নিরাময় ক্ষমতা। বর্তমানের হাইব্রিড বা রিমোট-ওয়ার্ক সংস্কৃতির কারণে ঘরে বসে একনাগাড়ে কাজ করার যে একঘেয়েমি তৈরি হয়, তা দূর করতে বুদ্ধিমান পাখিরা চমৎকার ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের কিচিরমিচির শব্দ ও চঞ্চলতা নিঃসঙ্গতা ঘুচিয়ে মনে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনে।

অন্যদিকে, ঘরের কোণে রাখা একটি অ্যাকোয়ারিয়ামে মাছের ছন্দময় চলাচল বা ছোট কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণীর প্রাণোচ্ছ্বল উপস্থিতি আমাদের ইন্দ্রিয়কে প্রশান্ত করে এবং মনোযোগ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। কাজের মাঝে ছোট ছোট বিরতি নিয়ে কখনো তাদের খাবার দেওয়া বা কখনো স্রেফ তাদের দিকে তাকিয়ে থাকা কর্মক্লান্ত মনে  জোগায় অনাবিল আনন্দ।

মার্কিন হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, কর্মব্যস্ততার মাঝে এই ধরনের ক্ষুদ্র বিরতিগুলো উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও দারুণ সহায়ক।

প্রাণীদের এই অসাধারণ জৈবিক ও মানসিক উপকারিতাকে স্বীকৃতি দিয়ে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অফিস সংস্কৃতিতেও আসছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। গুগল, অ্যামাজন কিংবা মেটার মতো তথ্য-প্রযুক্তির শীর্ষস্থানীয় প্রভাবশালী সংস্থাগুলো তাদের অফিসগুলোকে পেট-ফ্রেন্ডলি বা পোষা প্রাণিবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলেছে। আধুনিক অফিস ডিজাইনে এখন পোষা প্রাণীদের জন্য আলাদা জায়গা রাখা হচ্ছে।

বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, কর্মক্ষেত্রে প্রাণীর উপস্থিতি সহকর্মীদের মধ্যে সামাজিক জড়তা ভাঙতে, পারস্পরিক যোগাযোগ সহজ করতে এবং টিমের মধ্যে বিশ্বাস বৃদ্ধিতে অভাবনীয় কাজ করে। হাবরির তথ্যমতে, পোষা প্রাণীবান্ধব কর্মক্ষেত্রে প্রায় ৯১ শতাংশ কর্মী তাদের কাজের প্রতি অনেক বেশি নিবিড়ভাবে মনোযোগী থাকেন এবং তাদের কাজের মানও প্রথাগত অফিস পরিবেশের চেয়ে বহুগুণ বেশি হয়। এখন এটি আর কেবল ব্যক্তিগত মানসিক প্রশান্তির মাঝে সীমাবদ্ধ নেই, বরং প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতেও একটি আধুনিক কৌশল হিসেবে সমাদৃত হচ্ছে।

তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই সুন্দর সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে আইনি সতর্কতা ও নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। শখের বশে পোষা প্রাণী পালনের ক্ষেত্রে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন মেনে চলা বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশের বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী, কোনো সংরক্ষিত বা নিষিদ্ধ বন্য প্রাণী, বিশেষ করে দেশীয় বুনোপাখি বা বনজ স্তন্যপায়ী প্রাণীকে বন্দি করে রাখা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।

তাই পোষা প্রাণী নির্বাচনের আগে তার প্রজাতিগত তথ্য, পরিচর্যাবিষয়ক ধারণা ও আইনি বৈধতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা প্রয়োজন। বর্তমানে বাংলাদেশে বিভিন্ন অনলাইন ভিত্তিক গ্রুপ দায়িত্বশীলভাবে প্রাণী পালনে জনসচেতনতা সৃষ্টি করছে। এই প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে প্রাণীর সঠিক লালন-পালন, ভেটেরিনারি সেবা ও আইনি দিকনির্দেশনা গ্রহণ করা যেতে পারে। মনে রাখা উচিত, ব্যক্তিগত সুখ বা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য যেন কোনোভাবেই কোনো বন্য প্রাণীর স্বাধীনতা বা অধিকার ক্ষুণ্ন না হয়।

যান্ত্রিক এই সভ্যতায় ঘরে বা কর্মক্ষেত্রে পোষা প্রাণীর অন্তর্ভুক্তি কেবল এক টুকরো আনন্দের উৎস নয়, বরং এটি আধুনিক করপোরেট ওয়েলবিয়িং বা মানসিক সুস্থতার এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ। এক অনুগত সঙ্গীর সান্নিধ্য আমাদের শেখায় জীবনের কঠিন ও জটিল মুহূর্তগুলোতে একটু থামতে, দীর্ঘশ্বাস নিতে এবং বর্তমান মুহূর্তটিকে তার সমস্ত সৌন্দর্যসহ উপভোগ করতে। একটি প্রাণীর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও নির্ভরতা আমাদের কেবল কর্মক্ষমই করে তোলে না, বরং আরও বেশি মানবিক ও সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে।

লেখক : ফিন্যান্সিয়াল প্রফেশনাল, ইনডিপেনডেন্ট কন্ট্রিবিউটর

পোষা প্রাণী
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    advertiseadvertise