এখন যা কিছু আসবে সবই বোনাস

লিওনেল মেসি
আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শুরু করেছেন লিওনেল মেসি। ওই ম্যাচের পরপরই আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ‘ওলে’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হয়েছে
প্রশ্ন: আপনার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এই প্রথম আপনি বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করেছেন। অনুভূতি কেমন?
লিওনেল মেসি: এটি সত্যিই দারুণ এক অনুভূতি। আমার জানামতে, জাতীয় দলের হয়ে এর আগে একমাত্র বাতিস্তুতাই বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করতে পেরেছিলেন। তাই তার সেই কীর্তিকে স্পর্শ করতে পারাটা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। (বিশ্বকাপে বাতিস্তুতার দুটি হ্যাটট্রিক এবং গিলের্মো স্তাবিল ও হিগুয়েইনের একটি করে হ্যাটট্রিক আছে)। তবে আমি বলি, দলের সবার প্রচেষ্টা ও ম্যাচ জেতাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন: আপনি ১৬ গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। এর অর্থ আপনার কাছে কী?
মেসি: ওখানে পৌঁছানো একটা ব্যাপার, এমন জায়গায় থাকতে পারাটা অবশ্যই অনেক সম্মানের। ক্লোসা ও রোনালদোর মতো ফুটবলারের পাশে থাকাটা অবশ্যই অত্যন্ত গৌরবের। তবে এগুলো আমার কাছে খুব বড় অর্থ বহন করে না। দিনশেষে এগুলো শুধুই পরিসংখ্যান মাত্র, যদিও তাদের সবার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারাটা গর্বের। বিশ্বাস করুন, আমি এই সংখ্যার হিসাব রাখিনি, এগুলো খুব একটা খেয়ালও করি না। তবে হ্যাঁ, আমি জানতাম এমবাপ্পে ঠিক কতগুলো গোল করেছে। সে দুর্দান্ত ও অবিশ্বাস্য প্রতিভা।
প্রশ্ন: এমবাপ্পে জোড়া গোল করে এগিয়ে গেলেও কয়েক ঘণ্টা বাদে আপনি হ্যাটট্রিক করে তাকে ছাড়িয়ে গেছেন...
মেসি: এই রেকর্ড আমাকে এতটুকু বদলাতে পারবে না। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে, ক্লাব, জাতীয় দল এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে সব গুরুত্বপূর্ণ ও চমৎকার অর্জনের সৌভাগ্য আমার হয়েছে। তাই এখন থেকে যা কিছু আসবে, সবই আমার কাছে বোনাস।
প্রশ্ন: এক সপ্তাহ পরই আপনি ৩৯ বছরে পা দেবেন। এত বছর ধরে নিজেকে এতটা প্রাসঙ্গিক ও ফিট রাখলেন কীভাবে?
মেসি: এটাই আমার লড়াই করার ধরন, সবসময় ফুটবলের মধ্যে বেঁচে থাকা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং নিজের সেরাটা দেওয়া। আমি চেষ্টা করেছি নিজেকে শারীরিকভাবে প্রস্তুত রাখতে, যেন এই বিশ্বকাপে ভালোভাবে কাটাতে পারি। পাশাপাশি দলকে যেন সাহায্য করতে পারি। এই দলটিতে অসাধারণ সব খেলোয়াড় রয়েছে এবং এটি অত্যন্ত লড়াকু একটি দল। এখানে কেউ আপনাকে সহজে এক ইঞ্চি জায়গা ছেড়ে দেবে না। এখানে খেলতে হলে এবং টিকে থাকতে হলে আপনাকে থাকতে হবে নিজের সেরা ফর্মে। এটাই আমাদের শক্তিশালী করে তোলে এবং এই কারণেই দল হিসেবে আমরা সব সাফল্য পেয়েছি।
প্রশ্ন: এই বয়সেও তো সেরা ফর্মে খেলে যাচ্ছেন...
মেসি: আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসি, ছোটবেলা থেকেই এটি আমার প্যাশন। আমি যতদিন ভালো বোধ করব, ফিট থাকব, ততদিন নিজের সবটুকু উজাড় করে দেব। রাফায়েল নাদালের ওপর তৈরি ডকুমেন্টারি সিরিজটি দেখছি এবং আমি ওর সঙ্গে নিজেকে খুব মেলাতে পারি। আমার মনে হয়, এই দিক থেকে আমরা খুব একই রকম, সবসময় মাঠে আমার সেরাটা দিতে চাই।
প্রশ্ন: সপ্তম বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা আছে?
মেসি: (এক দুষ্টুমিভরা হাসি নিয়ে জবাব দিলেন মেসি) না। এটি নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি, তার কোনো সুযোগ নেই।




