আগামীর চোখ
কমিটি বসিবার পূর্বেই...

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি
পরপার থেকে আপনাদের ৩২তম সভার খবরটি পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত হলাম। টানা ৯ দিনের ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামসহ চার জেলায় আমাদের ২৯ জনের ইহলীলা সমাপ্ত হয়েছে। বেঁচে থাকতে আপনাদের অপেক্ষায় ছিলাম— কবে আসবেন, মিটিংয়ে বসবেন; আমাদের বাঁচার পথ দেখাবেন। আপনারা সময় করে উঠতে পারছিলেন না। সম্ভবত পাহাড়-টিলা গুনে শেষ করে উঠতে পারেননি। তাও ভালো, আমাদের মৃত্যুর পর অন্তত সময় বের করতে পেরেছেন। আপনাদের সময়ের মূল্য অনেক। শুধু আফসোস এই যে, সে মূল্য আমাদের প্রাণ দিয়ে মেটাতে হলো। যাই হোক, বৈঠকে বসতে পারার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই।
গত বছরের ২৬ মের পর চট্টগ্রামের পাহাড়বাসী তো আপনাদের টিকিরও সন্ধান পায়নি। দীর্ঘ এক বছর আপনারা পাহাড়ের মতো স্থির ও শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। স্কুলজীবনে পড়েছিলাম, ‘ডাক্তার আসিবার পূর্বেই রোগীটি মারা গেল।’ পাহাড়ধসে মরার পর সেটি প্রকৃত অর্থে বুঝতে পারলাম। এক্ষেত্রে বলা যায় যে, ‘কমিটি বসিবার পূর্বেই পাহাড়বাসী মরিয়া গেল।’
স্কুলজীবনে পড়েছিলাম, ‘ডাক্তার আসিবার পূর্বেই রোগীটি মারা গেল।’ পাহাড়ধসে মরার পর সেটি প্রকৃত অর্থে বুঝতে পারলাম
শহর ও শহরের কাছাকাছি আমরা যারা পাহাড়ে থাকতাম, বাধ্য হয়েই থাকতাম। আমরা জানতাম, আমাদের প্রাণের ঝুঁকি রয়েছে। কিন্তু পাহাড়ের মতো অত কম টাকায় শহরের কোন বাড়ির মালিক আমাদের ভাড়া দেবে বলুন? যাদের ভাড়া দিয়ে থাকতাম, তারা অবৈধভাবে পাহাড়ে ঘর নির্মাণ করেছে। তারা প্রভাবশালী। তাদের শুধু টাকা চাই। আমরা মরলাম কি বাঁচলাম, তাতে তাদের কিছু যায়-আসে না। আপনারা তো আগে সভা করতে পারতেন? আসলে আগে সভা করলে ক্ষয়ক্ষতির জুতসই ডেটা পাওয়া যেত না। আমরা ২৯ জন মাটির নিচে চাপা পড়ে আপনাদের সভার এজেন্ডা তৈরি করেছি। বৈঠকে আপনারা ‘বিশেষজ্ঞ কমিটি’ গঠন করেছেন। তাদের কাজ হবে— চট্টগ্রামের পাহাড়-টিলার অতীত ও বর্তমানের চিত্রসংবলিত জরিপ করা। এ জরিপ কি আগামী পাহাড়ধস ও আমাদের মতো একদল মানুষের মৃত্যুর আগে শেষ হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। তবে আগামী তিন মাস পর আপনারা আবার বসবেন শুনে ভালো লাগছে। অবশ্য যদি মনে করেন, আগামী বর্ষার আগে আর বসার দরকার নেই, তবে কোনো আপত্তি করব না। আমরা তো মাটির নিচে আছি। চাপা পড়ার ভয় নেই। শুধু পাহাড়ের ওপর যারা রয়েছে, তাদের জন্য ভয় পাচ্ছি।
ইতি
এক মৃত পাহাড়বাসী




