গুলিস্তানে সাবধান!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
সিনিয়র সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
একটি বহুল প্রচলিত কৌতুক খুব মনে পড়ছে। চীন নাকি একবার চোর ধরার যন্ত্র উদ্ভাবন করেছিল। এশিয়ার একাধিক দেশে সফলভাবে শত শত চোর ধরার পর বাংলাদেশ সরকার উদ্যোগী হয়ে যন্ত্রটি দেশে আনে। ঢাকঢোল পিটিয়ে সেই যন্ত্রটি বসানো হয় রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকা গুলিস্তানে। পরদিন সকালে গিয়ে দেখা যায়, চোর ধরা তো দূরের কথা, যন্ত্রটিই গায়েব হয়ে গেছে!
কৌতুকটি হয়তো হেসে উড়িয়ে দেওয়ার মতো, কিন্তু সম্প্রতি গুলিস্তানে নারায়ণগঞ্জগামী বাসে ওঠার সময় পকেটমারের কবলে পড়ে সাধের মোবাইল ফোনটি খোয়ানোর পর উপলব্ধি করলাম— এই কৌতুকটি আসলে গুলিস্তানের নিষ্ঠুর বাস্তবতার রূপক।
গুলিস্তানে পকেটমার তাও লুকোচুরি করে কাজ সারে। কিন্তু চাঁদাবাজি একেবারে প্রকাশ্যে। চাঁদার বিপরীতে রসিদও প্রদান করা হয়। সব ফুটপাত ও রাস্তার বড় অংশ হকারদের দখলেই। সব সরকারের আমলেই সেখানে চলে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি। হকাররাই মূলত চাঁদাবাজির শিকার। হকাররা বলেন, গুলিস্তানে শুধু প্লেয়ার বদলায়, খেলার নিয়ম একই থাকে। পত্রিকায় দেখলাম, কর্তব্যরত এক পুলিশ কর্তা বলছেন, ছিনতাইকারীর ছোঁ মারার ভয়ে তিনি নিজেই গুলিস্তানে পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করেন না সহজে! বুঝুন অবস্থা! রক্ষক নিজেই ভয়ে সতর্ক, সেখানে আমজনতার আর কী-ই করার থাকে?
স্যারের মানিব্যাগই নিয়ে গেছিসরে গাধার দল! ফেরত দিয়ে যা
গুলিস্তান শব্দের আক্ষরিক অর্থ ফুলের বাগান। প্রেক্ষাগৃহ ‘গুলিস্তান’ থেকে এই এলাকার নামকরণ। আজ এসে গুলিস্তানের মানে দাঁড়িয়েছে— ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক আর পকেটমারের বাগান।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, গুলিস্তানের একপাশে পুলিশ সদর দপ্তর, অন্যপাশে সচিবালয়। সেখানে আপনিও বসেন আর কি। সাকল্যে কয়েক মিনিটের হাঁটা পথ! আপনাদের নাকের ডগায় বসেই অপরাধের রাজ্য চলছে। আপনিও পকেটমারের শিকার হয়েছেন কি না জানি না। হলেও প্রকাশ্যে তো আর বলা যায় না। আপনি হয়তো পুলিশকে ফোন করে জানালেন। পুলিশ ওদের টিম লিডারকে ফোন করে হয়তো বলল, ‘স্যারের মানিব্যাগই নিয়ে গেছিসরে গাধার দল! ফেরত দিয়ে যা!’
সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা সিরিজের একটি উপন্যাসের নাম ‘গোরস্থানে সাবধান’। ভাবছি আমি একটা উপন্যাস লিখব, নাম হবে— ‘গুলিস্তানে সাবধান’। আপনাকেও এক কপি পাঠাব। রিভিউ দেবেন। পত্রিকায় ছাপানোর দায়িত্ব আমার।
যাইহোক, কাজের কথায় আসি। গুলিস্তানের এই চিত্র শুধুই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নয়, এটি প্রশাসনিক সক্ষমতার ওপরও এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন। তাই রাজধানীর এই ব্যস্ততম এলাকাটিকে অপরাধীদের থেকে মুক্ত করা আপনার জন্যও জরুরি। এতে আমরা দুজনই রক্ষা পাব।
ইতি
পকেটমারের শিকার এক নাগরিক






