আগামীর চোখ
ফলহীন বটগাছের নাম বিটিভি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রিয়
মহাপরিচালক, বিটিভি
আমার গ্রামের চৌরাস্তার মাঝে একটি বটগাছ দাঁড়িয়ে আছে। ৬০ বছর ধরে গাছটিকে সেই এক রূপেই দেখছি। কোনো পরিবর্তন নেই। পরিবর্তন দেখেনি আমার বাবা, তার বাবা, তারও বাবা। তবে বটগাছটি ছায়া দেয়, ফল দেয়, মানুষ খেতে না পারলেও পাখি খায়। তারপর েস বীজ ছড়িয়ে যায় গ্রামের পর গ্রামে।
বিটিভিও বটগাছ। কোনো পরিবর্তন নেই। পরিবর্তন দেখিনি আমি, দেখেনি আমার সন্তান, আমার নাতিও দেখছে না। কোনো ফল সে দেয় না। এখানেই বটগাছের সঙ্গে পার্থক্য বিটিভির। অথচ গোড়ায় পানি ঢালা হচ্ছে নিয়মিত। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (বিটিভি) মোট আয় হয়েছে ৮ কোটি ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ২৫৪ কোটি ১৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা!
অ্যানালগ যুগ চলে গেছে। অ্যান্টেনার সঙ্গে প্রতিদিনের রেষারেষি শেষ হয়েছে, তারপর দূর থেকে দূর গ্রামে চলে গেছে ডিশ লাইন। চ্যানেলের ছড়াছড়ি। নাটক, সিনেমা, সংবাদের জোয়ার বয়ে গেল। এরপর চ্যানেলগুলো ঢুকেছে মোবাইল ফোনে। এ কর্মযজ্ঞের ভিড়ে আপনার বিটিভি কোথায়? মানসম্মত কোনো নাটক নেই, সংবাদ নেই, টক শোতেও অতিথি গুণগান করেন সরকারের। কাজ না থাকলে ব্যয়েরও প্রশ্ন আসে না। ব্যয় থাকলেও তা হবে আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য েরখে। আপনাদের আয়ের সঙ্গে ব্যয় তো মিলছে না। তাহলে এ টাকা কোথায় গেল? অলস বিকালে হাতিরঝিলের উদাসী হাওয়ায় বাদাম খেয়ে নিশ্চয়ই কোটি কোটি টাকা ওড়ানো যায় না! যদি কাগজপত্রের মারপ্যাঁচে বাদামের খরচ দেখিয়ে দেন, তবে আমার মতো গ্রামের মানুষের করার কিছুই নেই।
বিটিভি নিয়ে ট্রল করে ছেলেপেলেরা। করার কারণ আছে অনেক। সবচেয়ে প্রচলিত অভিযোগ, ঘটনাবহুল সময়ে ‘বাতাবি লেবুর বাম্পার ফলন’ মার্কা সংবাদ প্রচারে এগিয়ে বিটিভি। কোনো ঝুঁকি বিটিভি নেয় না এটা জানা কথা। মানসম্মত অনুষ্ঠানের আশা ছেড়েই দিলাম। রাষ্ট্রের টাকার শ্রাদ্ধ কবে বন্ধ করবেন? রোজ রোজ আলু তরকারির মতো একঘেয়ে অনুষ্ঠান দিয়ে আর কতদিন চলবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রমালিকানাধীন চ্যানেল দেখলে বোঝার উপায় থাকে না যে, নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে। িকন্তু বিটিভি!
আগামীর সময় পত্রিকায় খালেদ মুহিউদ্দীন তার রম্যরচনায় লিখেছেন, কোনো এক সময় সারা দুনিয়ার মানুষ ক্রেডিবল সোর্স হিসেবে বিটিভির কাছে আসবে। দেখিয়ে দেওয়া হবে প্রফেশনালিজম কত ধরনের ও কী কী। ততদিন কি বাঁচব?
ইতি
গ্রামের এক দর্শক




