আগামীর চোখ
হবু জামাইয়ের ‘স্পিরিট’

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রিয়
‘কারাগার-নিবাসী’ বন্ধু আমার,
বাসরঘরের সুশোভিত খাটের বদলে থানাহাজতের শক্ত মেঝেতে বিয়ের আগের রাতটি কাটানোর এক অভিনব ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা অর্জন করায় তোকে জানাই ‘উষ্ণ’ অভিনন্দন! আশা করি, হাজতের সরকারি কম্বল গায়ে জড়িয়ে বেশ আয়েশেই আছিস।
আগামীকাল তোর শুভবিবাহ হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু আজ রাতেই কী করে যে জীবনের সবচেয়ে বড় সত্যটি বুঝে ফেললি— বিয়ে নামক চিরস্থায়ী কারাগারের চেয়ে পুলিশের লক-আপ ঢের ভালো! বিয়ের পর অনেক ছেলেই বলে তারা ‘খাঁচায় বন্দি’ হয়ে গেছে। তুই একটু তাড়াহুড়ো করে বিয়ের আগেই খাঁচার প্র্যাকটিসটা সেরে নিচ্ছিস, এই যা! শ্বশুরবাড়ির চেয়ে থানার সেলের সাইজ হয়তো একটু ছোট; কিন্তু ফল তো একই— দুই জায়গাতেই নিজের স্বাধীনতায় কুঠারাঘাত লাগে।
মন খারাপ করিস না। বিয়ের পর জামাইরা শ্বশুরবাড়িতে ‘জামাই আদর’ পায়। তুই এক রাত আগেই সরকারি ‘জামাই আদর’ পেয়ে গেলি! ফ্রিতে থাকার জায়গা, সঙ্গে ফ্রি সিকিউরিটি গার্ড— এমন রাজকীয় আতিথেয়তা কজন বরের ভাগ্যে জোটে বল?
বিয়ের পর যখন বউয়ের ঝাড়ি খেয়ে মাঝেমধ্যে ঘরছাড়া হতে হবে, তখন এই থানাই হতে পারে তোর একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়স্থল
আমাদের সমাজে নিয়ম হলো, বর ধুমধাম করে সানাই বাজিয়ে কনের বাড়িতে এন্ট্রি নেবে। কিন্তু তুই তো লিজেন্ড! এন্ট্রি নিলি পুলিশের সাইরেন বাজিয়ে, প্রিজন ভ্যানে চড়ে। শ্বশুরবাড়ির গেটে শালিরা ফিতা কেটে টাকা দাবি করার কথা ছিল, সেখানে থানার গেটে পুলিশ সেন্ট্রি ডিউটি দিয়ে তোকে স্যালুট ঠুকে ভেতরে নিল। তোর এই রাজকীয় খাতির দেখে পাড়ার অবিবাহিত ছেলেদের বুক হিংসায় জ্বলে যাচ্ছে।
এদিকে তোর হবু শ্বশুরমশাই নাকি সকাল থেকে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন। তিনি ভাবছেন, মেয়ের জামাই হিসেবে একজন ‘মাদক সম্রাট’ পেতে যাচ্ছেন, নাকি ‘জলদস্যু’! তবে তোর হবু স্ত্রী কিন্তু জোশ। সে তো এরই মধ্যে বান্ধবীদের মেসেজ পাঠানো শুরু করেছে— ‘আমার বর তো সেলিব্রিটি! বিয়ের আগেই তার নাম পুলিশের খাতায় উঠে গেছে।’
যাহোক ভাই, যা হওয়ার তো হয়ে গেছে। এখন থানায় বসে ওসির সঙ্গে একটু সুসম্পর্ক গড়ে তোল। কারণ বিয়ের পর যখন বউয়ের ঝাড়ি খেয়ে মাঝেমধ্যে ঘরছাড়া হতে হবে, তখন এই থানাই হতে পারে তোর একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়স্থল।
পরিশেষে বলি, বোতলের ছিপি খোলার চেয়ে জীবনের নতুন অধ্যায় খোলা অনেক বেশি কঠিন। আগামীকাল কোর্ট থেকে জামিন পেয়ে বিবাহ বাসরে এলে তখন আসল ‘আদালত’ শুরু হবে। সেই আদালতে কোনো উকিল থাকবে না, কোনো জামিন হবে না— থাকবে শুধু যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
তোর দ্রুত মুক্তি (অথবা নতুন বন্দিদশা) কামনা করি।
ইতি
তোর বিবাহিত বন্ধু



