সংকট সমাধানে চাই সংবেদনশীলতা

সংগৃহীত ছবি
সম্প্রতি টানা বর্ষণ, জলাবদ্ধতা ও বন্যায় দেশের বিশাল অঞ্চলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। হাঁটু ও বুকপানি মাড়িয়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের যে শারীরিক ক্লান্তি ও মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দুর্যোগকালে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় পরীক্ষা পেছানো বা বিকল্প কেন্দ্রের মতো নমনীয় সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমাতে পারত। শিক্ষা শুধু ফল নয়, এটি শিক্ষার্থীর মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত।
এমন এক প্রেক্ষাপটে শিক্ষামন্ত্রীর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে অসন্তোষ তৈরি হয়। তবে পরে মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে— দায়িত্বশীল আচরণ ও সময়োপযোগী সংলাপ যেকোনো সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান এনে দিতে পারে।
ইতিহাস সাক্ষী, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান— প্রতিটি সংকটে ছাত্রসমাজ ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে। তবে আন্দোলন যেন সর্বদা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়, তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
গণমাধ্যমের খবর, এই আন্দোলনের পেছনে কোনো উসকানি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থা। তদন্ত হওয়া স্বাভাবিক। যথাযথ তদন্তের আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক। তাই দুর্যোগে মানবিক সহায়তা এবং তাদের প্রতি দায়িত্বশীল বক্তব্য প্রদান একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও জবাবদিহির মাধ্যমেই শিক্ষা ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা সম্ভব।
লেখক: আহ্বায়ক, আলেয়া সুলতানা স্মৃতি পাঠাগার, ফরিদপুর




