দ্রুত উপার্জনের লোভ বিপথগামী করছে

প্রতীকী ছবি
বর্তমানে রাজধানীসহ সারা
দেশে ‘কিশোর গ্যাং’ এক চরম আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূলত স্কুলপড়ুয়া, এতিম
ও নিম্নবিত্ত পরিবারের উঠতি বয়সী ছেলেদের নিয়ে এসব গ্যাং গড়ে উঠলেও এর ব্যাপ্তি
এখন বহুদূর। র্যাবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৩৩৯টি কিশোর গ্যাং সক্রিয়
রয়েছে। ঢাকার শিশু আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ বছরে শুধু সিনিয়র-জুনিয়র
দ্বন্দ্বে প্রায় ২০০ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। আবার প্রযুক্তির প্রসারের
সঙ্গে সঙ্গে এই সংকট আরও গভীরে পৌঁছেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের
বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই রাজধানীতে দেড় শতাধিক ‘ডিজিটাল গ্যাং’-এর
সন্ধান মিলেছে, যেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছে ১৬ বছর বয়সী কিশোর থেকে
২২ বছর বয়সী তরুণরা।
কিশোরদের এই অপরাধজগতে প্রবেশের পেছনে পরিচয়হীনতার সংকট, পারিবারিক অবহেলা, দারিদ্র্য এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া মাদক বিক্রি ও ছিনতাইয়ের মাধ্যমে দ্রুত অর্থ উপার্জনের লোভ কিশোরদের বিপথগামী করছে। খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক চর্চা ও দক্ষতা বিকাশের সুযোগ না থাকায় অলস সময় কাটানো কিশোররা সহজেই অপরাধে জড়ায়। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এসব গ্যাং এলাকায় ত্রাস, খুন ও গুমের মতো অপরাধ বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা চরমভাবে বিঘ্নিত করছে।
এই গভীর সামাজিক সংকট থেকে উত্তরণে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। প্রথমত, পারিবারিক পর্যায়ে সন্তানের মানসিক বিকাশে নজর দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, গ্যাংয়ের পেছনে থাকা রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী আশ্রয়দাতাদের সুনির্দিষ্ট আইনি জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এলাকাভিত্তিক কমিউনিটি পুলিশিং বাড়ানো এবং মোহাম্মদপুর-বছিলা এলাকার মতো প্রয়োজনে নতুন থানা স্থাপনের মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা অপরিহার্য। তৃতীয়ত, কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি করতে হবে, যাতে তারা সহিংসতার বাইরে ইতিবাচক আত্মপরিচয় পায়। সর্বোপরি ডার্ক ওয়েব ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গ্যাং তৎপরতা বন্ধে সাইবার নজরদারি বাড়ানো এবং গণমাধ্যমে গ্যাং সংস্কৃতিকে রোমাঞ্চকরভাবে উপস্থাপন করা থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি।
লেখক: শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়




