নেপথ্যে অমীমাংসিত সংকট

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের ইতিহাসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও ক্ষোভের নেপথ্যে রয়েছে শিক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সংকট ও প্রশাসনিক অদূরদর্শিতা। বন্যাসহ যেকোনো দুর্যোগে সময়োচিত ও সংবেদনশীল সিদ্ধান্তের অভাব শিক্ষার্থীদের রাজপথে নামতে বাধ্য করে।
আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা আজ শুধু পরীক্ষা ও ফলাফলকেন্দ্রিক এক যান্ত্রিক কাঠামোয় রূপ নিয়েছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পরীক্ষার চাপ, নম্বর প্রতিযোগিতা এবং নতুন করে ভর্তি পরীক্ষা চালুর পরিকল্পনা শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্যকে আরও গভীর করছে। তা ছাড়া শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মতামত উপেক্ষা করে নেওয়া নীতিগুলোর কারণে বাস্তবতার সঙ্গে সিদ্ধান্তের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সক্ষমতা মূল্যায়নে মুখস্থনির্ভর পাবলিক পরীক্ষার ওপর অতিনির্ভরতা কমিয়ে ধারাবাহিক ও সৃজনশীল মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা জরুরি। রাষ্ট্রকে বুঝতে হবে, শিক্ষা কোনো যান্ত্রিক প্রতিযোগিতা নয়; বরং নাগরিক গঠনের প্রক্রিয়া। তাই শিক্ষাকে পরীক্ষার সংকীর্ণ গণ্ডি থেকে মুক্ত করে একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক জাতীয় শিক্ষা-দর্শন গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।
লেখক: শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়




