শিক্ষামন্ত্রী ও উপদেষ্টার লন্ডন সফর: শিক্ষা খাতের আধুনিকায়নে নতুন দিগন্ত

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষাবিষয়ক সম্মেলন এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ফোরামে অংশ নিতে গত ১৮ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত যুক্তরাজ্য সফর করেছেন বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন।
সফরকালে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল প্রতিদিন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও আলোচনায় অংশ নেয়। শিক্ষা খাতে আধুনিক ও কর্মমুখী পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা নিয়ে এ সফর অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে উঠে এসেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার রূপরেখা।
আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য
সফরের মূল লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা।
এ ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রী তিনটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে মেধা, সৃজনশীলতা ও ব্যবহারিক শিক্ষার প্রসার, শিক্ষার্থীদের দক্ষ, উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান উপযোগী করে গড়ে তুলতে কর্মমুখী শিক্ষা এবং শ্রেণিকক্ষে ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়ন।
গুগল ফর এডুকেশনের সঙ্গে সহযোগিতা
সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি ছিল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা।
‘গুগল ফর এডুকেশন’-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
বিশেষ করে সরকারের ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুগলের কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ উদ্যোগ
শিক্ষকদের ‘পরিবর্তনের অগ্রদূত’ উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী প্রতিটি শিক্ষকের হাতে ডিজিটাল ডিভাইস বা ট্যাব তুলে দেওয়ার উদ্যোগের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার একটি প্রাথমিক রূপরেখাও তৈরি হয়েছে।
ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা
ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে— শিক্ষার্থীদের বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া, মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ ধাপে ধাপে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা এবং মিড-ডে মিল কর্মসূচির সম্প্রসারণ।
আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার পথে বাংলাদেশ
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষামন্ত্রী ও উপদেষ্টার এই লন্ডন সফর বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক, আনন্দময় ও প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামোর দিকে এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কেবল জ্ঞানভিত্তিক নয়, সৃজনশীল ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য বলে সফর শেষে দেশে ফিরে জানান শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা উপদেষ্টা।






