লিমন হত্যায় মিলেছে নতুন তথ্য, বক্তব্য পাল্টাচ্ছেন অভিযুক্ত

জামিল আহমেদ লিমন
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন (২৭) হত্যার ঘটনায় মিলেছে নতুন তথ্য। তার মরদেহ যেখানে পাওয়া গেছে, সেখান থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে (২২ মাইল) একটি মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ হেফাজতে বারবার বক্তব্য পাল্টাচ্ছেন হত্যার ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়েহ। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে ও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের (পুলিশ) বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে এ তথ্য।
আদালতের নথি বলছে, ১৬ এপ্রিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার ক্যাম্পাসে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল লিমন ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টিকে। তাদের নিখোঁজ ঘোষণা করা হয় পরদিন। পরে গত ২৫ এপ্রিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বৃষ্টি। নাহিদার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত জানিয়েছেন, বেঁচে নেই বৃষ্টি। আগামীর সময়কে প্রান্ত জানিয়েছিলেন, বিষয়টি তাদের নিশ্চিত করেছে পুলিশ। পুলিশ বৃষ্টির মরদেহ পায়নি এখনো। তবে তারা জানিয়েছে, মরদেহ পাওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নয়। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজনের বাসায় পাওয়া রক্তের নমুনা বিশ্লেষণ করে তারা নিশ্চিত হয়েছেন, বৃষ্টি মারা গেছেন।
এদিকে রবিবার নতুন করে মরদেহের যে খণ্ডিত অংশ পাওয়া গেছে, তা রাখা হয়েছে পিনেলাস কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের দপ্তরে। ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে দেহাবশেষের। এটি ছেলে নাকি মেয়ের মরদেহ, তাও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
হিলসবরো কাউন্টি আদালতের নথি বলছে, ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতে নিহত হয়েছেন লিমন। তার পিঠের নিচের অংশে যে আঘাত করা হয়েছে, তা পৌঁছে গেছে লিভার পর্যন্ত। অপরাধের নৃশংস প্রকৃতির কারণে অভিযুক্ত হিশামকে বিচারপূর্ব আটক রাখার আবেদন করেছেন প্রসিকিউটররা। আবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তের মুক্তি কমিউনিটির অন্যদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলবে।
এদিকে জিজ্ঞাসাবাদে একেকবার একেক রকম তথ্য দিচ্ছেন অভিযুক্ত হিশাম, এমনটিই জানা সিএনএনের প্রতিবেদনে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হিশাম জানান, ঘটনার দিন লিমন ও বৃষ্টিকে দেখেননি তিনি। তবে তদন্তে দেখা গেছে, ওই রাতেই তার গাড়ি ক্লিয়ারওয়াটার বিচ এলাকায় ছিল। লিমনের মোবাইলের শেষ অবস্থানও ছিল এই ক্লিয়ারওয়াটার বিচ।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে হিশাম আবার দাবি করেন, লিমন ও বৃষ্টি কখনো তার গাড়িতে ওঠেননি এবং তিনি ক্লিয়ারওয়াটার যাননি। পরে তার মোবাইল লোকেশন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, লিমন তাকে তার বান্ধবীসহ ক্লিয়ারওয়াটারে পৌঁছে দিতে বলেছিলেন।
তদন্তকারীরা লক্ষ করেন, হিশামের বাঁ হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে রয়েছে ব্যান্ডেজ। হিশাম দাবি করেন, পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে আঘাত পেয়েছেন তিনি। ১৬ এপ্রিলের একটি দোকানের রসিদে আবর্জনার ব্যাগ, জীবাণুনাশক ও গন্ধনাশক কেনার তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে এই তথ্য।
শনিবার আদালতে প্রাথমিক হাজিরার পর তাকে আটক রাখা হয়েছে কারাগারে। মঙ্গলবার প্রি-ট্রায়াল শুনানিতে প্রসিকিউশন তাকে আটক রাখার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করবে। তার বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি পরিকল্পিত হত্যার দুটি অভিযোগসহ মরদেহ সরানো, মৃত্যুর তথ্য গোপন করা, প্রমাণ নষ্ট করা, অবৈধভাবে আটকে রাখা এবং হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।






