৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট কাল
- ৩৪৯ এমপির সিদ্ধান্তে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপ্রধান

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ভোটের মাধ্যমে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। দুই প্রার্থীর কেউ-ই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় শেষ পর্যন্ত ভোটের পথেই গড়িয়েছে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে ভোটগ্রহণ। চট্টগ্রাম-৪ আসনের গেজেট স্থগিত থাকায় এ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। ভোট শেষে কালই ঘোষণা করা হবে প্রাথমিক ফলাফল।
এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ইসি সচিব আখতার আহমেদ গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে কমিশনের পক্ষ থেকে ২০ জন নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারিত সময়ের শুরুতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনী কর্মকর্তা তথা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) উপস্থিত সংসদ সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করবেন। এরপর ভোটারদের হাতে ব্যালট পেপার দেওয়া হবে। সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে তা জমা দেবেন। বিকাল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হবে ভোট গণনা। বৈধ ও অবৈধ ভোট গণনা শেষে জাতীয় সংসদ কক্ষেই আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনী কর্মকর্তা।
আদালতের নির্দেশে নির্বাচিত বিএনপি প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় চট্টগ্রাম-৪ আসনটি বর্তমানে শূন্য রয়েছে। ফলে সংসদের ৩৫০ আসনের মধ্যে ৩৪৯ জন সদস্য এবার দেশের রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের ভোটে অংশ নেবেন। দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বহাল থাকায় ১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অর্থাৎ প্রায় ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে দেশবাসী। দেশের ইতিহাসে এটি হবে এমন দ্বিতীয় ভোটের নির্বাচন।
তবে ভোটের ফল নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে খুব একটা অনিশ্চয়তা নেই। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বাস্তবতায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিজয় প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোয় দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্যের পদ বাতিল হওয়ার বিধান রয়েছে। ফলে দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ কার্যত নেই।
তারপরও বিরোধী জোট প্রার্থী দেওয়ায় নির্বাচনটি রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিরোধী জোটের নেতারা বলছেন, জয়-পরাজয়ের হিসাব জেনেও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের চর্চাকে শক্তিশালী করতেই তারা প্রার্থী দিয়েছেন। তাদের দাবি, গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার হলে এবং ৭০ অনুচ্ছেদের বর্তমান বিধান না থাকলে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারতেন। সেক্ষেত্রে নির্বাচনের ফল ভিন্নও হতে পারত।
এর আগে গত ২৪ জুলাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। পদটি শূন্য হওয়ার পর ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। একক প্রার্থী না থাকায় শেষ পর্যন্ত নির্বাচন গড়িয়েছে ভোটগ্রহণে।






