ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা রেখে চলবে এইচএসসি

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন- সংগৃহীত
দেশ জুড়ে চলমান বিরূপ আবহাওয়া এবং কিছু এলাকার জলাবদ্ধতা সত্ত্বেও সামগ্রিক পরিস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনা করে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার এক ফেসবুক পোস্টে এমনটা জানালেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
তিনি লিখেছেন, ‘মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান পরীক্ষায় ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা ৫টি জেলার পরীক্ষা আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত আগেই স্থগিত করা হয়েছে। তবে দেশের বাকি অঞ্চলের জেলাগুলোতে পরিবেশ অনুকূলে থাকায় পরীক্ষা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’
মাহদী আমিন জানান, ভারী বর্ষণের কারণে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে স্থানীয় প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোথাও যাতায়াত বা জলাবদ্ধতার গুরুতর সমস্যা হলে প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষাকেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত বা পরীক্ষার সময় বৃদ্ধি করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনকে। এ ছাড়া বিরূপ আবহাওয়ার কারণে দেশের অন্য কোনো অঞ্চলের শিক্ষার্থী যদি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারে, তবে তারা পরে চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সঙ্গে একই দিনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে ত্রুটি থাকায় শিক্ষার্থীদের স্বার্থে ওই প্রশ্নের জন্য সবাইকে পূর্ণ নম্বর (ফুল মার্কস) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সরকারের শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিরই অংশ।
তিনি লিখেছেন, সম্প্রতি কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে আকস্মিক জলাবদ্ধতার কারণে নৌকায় করে পরীক্ষার্থী পারাপারের ছবি সামাজিকমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে জানানো হয়েছে, কুমিল্লা বোর্ডের ১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে শুধু ওই একটি কেন্দ্রের ৯৮৭ পরীক্ষার্থী সাময়িক সমস্যায় পড়েছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পরীক্ষা এক ঘণ্টা পিছিয়ে পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ সময় নিশ্চিত করা হয় এবং প্রশাসনের তৎপরতায় সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। বোর্ডের বাকি ১৯২টি কেন্দ্রে পরীক্ষা সম্পূর্ণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মুষ্টিমেয় কিছু কেন্দ্রের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা পুরনো ও বিভ্রান্তিকর ছবি-ভিডিও ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কিছু কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের কষ্ট হয়েছে— এটি যেমন সত্য, তেমনি দেশের বিশাল অংশের পরীক্ষার্থীরা কোনো ধরনের দুর্ভোগ ছাড়াই নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিচ্ছে— সেটিও বাস্তব।
পরিশেষে তিনি লিখেছেন, সরকার পরীক্ষার্থীদের মেধা ও মানসিক প্রস্তুতির সঠিক মূল্যায়ন এবং যথাসময়ে শিক্ষাবর্ষ শেষ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই সব ধরনের দ্বিধা ও অস্থিরতা পেছনে ফেলে পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোনিবেশ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বজায় রাখতে এবং আতঙ্কহীন পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।




