মাহদী আমিন
মন্ত্রিসভায় রদবদল সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নীতি-নির্ধারণী বিষয়

সংগৃহীত ছবি
মন্ত্রিসভায় রদবদল বা পরিবর্তনের ব্যাপারটি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নীতি-নির্ধারণী বিষয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘এ বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য নেই।’
আজ সোমবার (২৫ মে) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং, যেখানে তুলে ধরা হয় সরকারের ১০০ দিনের কার্যক্রমের পরিসংখ্যান।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মধ্য দিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করে বিএনপি সরকার। আগামী ২৭ মে সরকারের বয়স এক শ দিন হবে।
নির্বাচিত বিএনপি সরকার বিগত সময়ে লুণ্ঠিত রাষ্ট্রীয় মালিকানা ১০০ দিনের মধ্যে জনগণের কাছে আবার ফিরিয়ে দিয়েছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী।
তিনি জানালেন, বিএনপি সরকারের ১০০ দিনে মন্ত্রিসভার নেওয়া ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ৬২ শতাংশই বাস্তবায়িত হয়েছে। সরকারের অভূতপূর্ব এই কর্মযজ্ঞে সাধারণ মানুষের জীবনমানে এরই মধ্যেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে বলে দাবি তার।
মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর ২৪ মে পর্যন্ত মন্ত্রিসভার মোট দশটি বৈঠক হয়েছে। এসব সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে ৩৭টি সিদ্ধান্ত, অর্থাৎ প্রায় ৬২ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অবশিষ্ট ২৩টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
তার দাবি, সরকার গঠনের পর এত স্বল্প সময়ে মন্ত্রিসভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের উল্লেখযোগ্য অংশ কার্যকর করতে সক্ষম হওয়া সরকারের দ্রুততা, কার্যকারিতা ও আন্তরিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
সরকারের ১০০ দিনের কর্মসূচিকে মোটা দাগে মূল্যায়ন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানালেন, ‘প্রথম ১০০ দিনে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী যে দ্রুত দৃশ্যমান এবং কার্যকরী বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, খুব স্বল্প সময়ে তাতে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে, সমস্যার সমাধান হচ্ছে। খেটে খাওয়া প্রান্তিক তৃণমূলের মানুষ আরো বেশি স্বাবলম্বী-স্বনির্ভর হয়ে উঠছেন।’
হামের টিকা প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, ‘হামের টিকা আমরা বিদেশ থেকে নিয়ে এসেছি। গত তিন মাসে প্রায় শতভাগ শিশুকে হামের টিকা নিশ্চিত করা হয়েছে। এজ এ ফরওয়ার্ড লুকিং গভর্মেন্ট আমরা নিশ্চিত করতে চাচ্ছি, ভবিষ্যতে যেন আর কখনো এ বিষয়টা না ঘটে। সামনের দিনগুলোতে হাম বা অন্য যেকোনো রোগ থেকে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়, কীভাবে প্রতিটি পরিবারের নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করতে পারি— সেগুলো নিয়ে আমাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ চলমান রয়েছে।’
অপতথ্যে চরিত্র হনন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন মাহদী আমিন। তার ভাষ্য, ঐতিহ্যগতভাবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার সময় প্রতিটি নির্বাচিত বিএনপি সরকার কিন্তু সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিএনপি সরকারও কিন্তু বাকস্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেকেই সে বাকস্বাধীনতাকে অপব্যবহার করছে। অশালীন আচরণ করা, সংবেদনশীলভাবে অপপ্রচার করা কিংবা চরিত্র হনন করা- সুনির্দিষ্টভাবে এগুলো কখনোই বাক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত না।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘একটি স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থার অংশ হিসেবে জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতা যদি আমাদের সুরক্ষিত রাখতে হয়; সেটি যেমন শারীরিকভাবে প্রয়োজন, যেমন বাস্তব জীবনে প্রয়োজন, সাইবার স্পেস বা অনলাইনেও কিন্তু সরকারের দায়িত্ব প্রত্যেককে সুরক্ষা দেওয়া। সেটি নিয়ে আমরা কাজ করছি। বাকস্বাধীনতার নামে যে অপপ্রচার করা হচ্ছে, এটা নিয়ে তো আমরা সবাই কমবেশি অবহিত। এর জন্য স্বাভাবিকভাবে কিছু আইনি সংস্কারের প্রয়োজন। এগুলো নিয়ে হয়তো সামনের দিনগুলোতে অংশীজনদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সমন্বিত একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
‘বর্তমান সরকারের সবচাইতে বড় শক্তি হচ্ছে- এটি জনগণের দ্বারা ক্ষমতায়িত সরকার। জনগণ যদি প্রত্যাশা করে- সেই ধরনের আইন আসবে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে। অবশ্যই সেই ধরনের আইন নিয়ে ভবিষ্যতে কাজ করা হবে। তবে কোনো আইন বিএনপি সরকার কখনোই ওপর থেকে চাপিয়ে দেয়নি।’
সাগর-রুনি হত্যার বিচার সরকারের অগ্রাধিকার জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র জানালেন, ‘অবশ্যই সাগর-রুনি হত্যার বিচার হওয়া উচিত। আমার ধারণা, সামনের দিনগুলোতে দেখা যাবে দৃশ্যমান অগ্রগতি।’
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সূচনা বক্তব্যে দেশকে সবুজায়ন করতে প্রধানমন্ত্রীর কয়েকটি উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বললেন, ‘বিএনপি সরকার বৃক্ষপ্রেমী সরকার।’
উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মাহফুজুর রহমান, উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু, সুজন মাহমুদ, শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব আশরোফা ইমদাদ, নাজমুল হক খান ও আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার।






