জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়ায় মন্ত্রিসভার সায়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আজ সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৬তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তাতে বলা হয়, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ রাষ্ট্রের অন্যতম অঙ্গীকার। মানবাধিকার সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও নিশ্চিতকরণ রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য। জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণা এবং মানবাধিকার-সংক্রান্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইন, সনদ ও চুক্তি পরিপালনেও বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিজ্ঞপ্তিতে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এর উল্লেখযোগ্য বেশ কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেগুলো হলো—
(ক) কমিশন গঠন ও এর মেয়াদ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট বিধান রাখা হয়েছে। একজন চেয়ারপারসন ও চারজন কমিশনার নিয়ে কমিশন গঠিত হবে। এতে অন্তত একজন নারী অন্তর্ভুক্তির বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে বাছাই কমিটির সুপারিশে নৃগোষ্ঠী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর যোগ্য প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে;
(খ) বাছাই কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, নাগরিক প্রতিনিধি এবং নৃগোষ্ঠী বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
(গ) কমিশনের কার্যপরিধি সুস্পষ্ট করা হয়েছে এবং অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা সহজ করা হয়েছে।
(ঘ) কার্যকর তদন্ত ব্যবস্থা ও ভুক্তভোগীর তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ কমিশনকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
(ঙ) তদন্ত চলাকালে ভুক্তভোগীর তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বা ক্ষতি রোধে কমিশনকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা-সংক্রান্ত বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং
(চ) জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী সনদের ‘ঐচ্ছিক প্রটোকল’ অনুযায়ী হেফাজতে নির্যাতন, মৃত্যু বা গুম রোধে একটি জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া এদিন বৈঠকে ‘ভিসা নীতিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া ও ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।





