জামায়াত
ম্যানেজিং কমিটিতে শিক্ষক নিয়োগে অর্থ লেনদেনের সুযোগ তৈরি হবে

বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এটি বাস্তবায়ন হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
সরকারের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার (১০ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বিবৃতিতে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলীয় প্রভাব ও ঘুষ-বাণিজ্যের পুরোনো চক্র পুনরায় সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো যোগ্য, মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ। সেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায়িত্ব ম্যানেজিং কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হলে শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের যে প্রক্রিয়া চালু রয়েছে, সেখানে মেধা, যোগ্যতা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে একজন প্রার্থী নিজ যোগ্যতায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অনেকাংশে নিশ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে এ প্রক্রিয়া শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদাও বৃদ্ধি করেছে।
জামায়াত সেক্রেটারি আরও বলেন, বিদ্যমান নিয়োগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও জটিলতা দূর করে সেটিকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও বাস্তবমুখী করার পরিবর্তে যদি আবার ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়, তাহলে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ অতীতের মতো পুনরায় তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে দলীয় প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপের অভিযোগ সামনে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
শিক্ষক নিয়োগ কোনোভাবেই রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবের বিষয় হওয়া উচিত নয়। একজন শিক্ষককে তার মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। যোগ্য শিক্ষক ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়—উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
বিবৃতিতে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ বাতিলের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে এনটিআরসিএর বিদ্যমান নিয়োগব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।
প্রয়োজনে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতো একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলেও মত দেন জামায়াত সেক্রেটারি।
শিক্ষক নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে কোনো ধরনের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক বা আর্থিক প্রভাব যাতে স্থান না পায়, সেটিই রাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান হওয়া উচিত। শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে সরকারের এ উদ্যোগ পুনর্বিবেচনারও দাবি জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।





