সংসদ নির্বাচন
আজ থেকে মাঠে থাকবে সেনাসহ বিভিন্ন বাহিনী

সংগৃহীত ছবি
জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আজ রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে নামছেন। টানা সাত দিন তারা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে মাঠে রয়েছে। আজ থেকে তাদের সঙ্গে আরো সেনাসদস্যসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন শুরু করবে। একই সঙ্গে ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করবে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় সেল সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে কমিশন সার্বক্ষণিক তথ্য পাবে।
নির্বাচন কমিশনার আরো জানান, শঙ্কামুক্ত ও নির্বিঘ্ন ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নির্বাচনের পরিবেশ সম্পূর্ণ অনুকূলে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
তিনি বলেন, জেলায় জেলায় ব্যালট বাক্স পাঠানো হয়েছে এবং রিটার্নিং কর্মকর্তারা সেগুলো গ্রহণ করছেন। এখন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাই ভোটগ্রহণের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
জাতিকে একটি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে রহমানেল মাছউদ বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত প্রায় ১৮ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও আনসার সদস্যরা সবাই দায়িত্ব পালনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এবার কোনো ধরনের ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ হবে না।
এদিকে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের বরাতে তার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, এখন পর্যন্ত নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি অত্যন্ত ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, প্রস্তুতি নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট এবং খুশি। এখন লক্ষ্য হচ্ছে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া যেন সুষ্ঠু ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন হয়। এই নির্বাচন ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) প্রায় সাড়ে ৫ লাখ সদস্য ভোটকেন্দ্রে মোতায়েন থাকবেন। পুলিশের প্রায় দেড় লাখ, সশস্ত্র বাহিনীর এক লাখ এবং বিজিবির ৩৭ হাজারের বেশি সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৫ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে।
এ ছাড়া মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬ থেকে ১৭ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ থেকে ১৮ জন নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন থাকবে। মেট্রোপলিটন এলাকায় সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জন দায়িত্ব পালন করবেন। দুর্গম হিসেবে ঘোষিত ২৫ জেলার নির্দিষ্ট এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতেও ১৬ থেকে ১৮ জন করে নিরাপত্তা সদস্য থাকবে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য প্রায় ৪০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং প্রায় ৫০ হাজার দেশীয় পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি বিদেশি সাংবাদিকরাও নির্বাচন কাভার করবেন।
উল্লেখ্য, এবারের জাতীয় নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।
এই সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে মোট দুই হাজার ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে আড়াই শতাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন এবং বাকি প্রার্থীরা ৫১টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন।



