বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী
দুর্যোগের পাহাড়ি-বাঙালি সমান সুবিধা পাবে

সংগৃহীত ছবি
পাহাড়ি ঢল আর অতিবৃষ্টিতে থমকে গেছে বান্দরবানের জনজীবন। পানিবন্দি হাজারো মানুষের চোখেমুখে এখন অনিশ্চয়তা। এই দুর্দিনে তাদের আশ্বস্ত করতে মাঠে নেমেছেন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আজ বুধবার বলেছেন, দুর্যোগের এই সময়ে পাহাড়ি কিংবা বাঙালি—কোনো বিভাজন নেই। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি মানুষের পাশে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে দাঁড়িয়েছে।
বুধবার বান্দরবান পৌরসভার আমতলী পাড়ায় বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন বলে সরকারের তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে এসেছেন। বন্যায় ঘরবাড়ি হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘আপনাদের ঘরবাড়ি সরকারি উদ্যোগে পর্যায়ক্রমে মেরামত করে দেওয়া হবে। আমরা চাই আপনারা দ্রুত নিজ নিজ ঘরে ফিরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।’
বন্যার প্রথম দিন থেকেই স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো কাজ করে যাচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষদের জন্য রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে, আর যারা ঘরে আটকা পড়েছেন, তাদের কাছে পৌঁছানো হচ্ছে শুকনো খাবার। এর পাশাপাশি বন্যাদুর্গত এলাকায় রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়া রোধে মেডিকেল টিমগুলো সার্বক্ষণিক সেবা দিচ্ছে।
বন্যা-পরবর্তী আর্থিক চাপ সামলাতে সরকার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই খাদ্য সহায়তা ও বিশেষ কর্মসূচি চালু করা হবে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কিনতে পারবেন, যা তাদের আর্থিক দৈন্য কিছুটা হলেও কমাবে।’
পানি নামতে শুরু করায় এখন বান্দরবানে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে—কাদা আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে সম্মিলিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে, যাতে এলাকাগুলো দ্রুত বসবাস উপযোগী হয়।
ত্রাণ বিতরণকালে বান্দরবানের স্থানীয় সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাধবী মার্মা, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন, বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস, পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার এবং সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।





