গাঢ় নীল-জলপাই রঙের শার্ট, খাকি প্যান্ট ফিরল পুলিশে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
অনেকটা আগের ইউনিফর্মেই ফিরছে পুলিশ। ‘গাঢ় নীল’ এবং ‘হালকা অলিভ’ (জলপাই) রঙের শার্টের সঙ্গে থাকছে খাকি প্যান্ট। এ সংক্রান্ত ঘোষণা দিয়ে একটি গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। পোশাক আগের রঙের হলেও এবার সবার প্যান্ট হবে খাকি।
গতকাল বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি গেজেট প্রকাশ পুলিশ সদর দপ্তর।
১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের সেকশন-১২ এর ক্ষমতা বলে সরকারের অনুমতিক্রমে পুলিশ ড্রেস রুলস ২০২৫ এর সংশোধন করে একটি গেজেটে স্বাক্ষর করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
এর আগে পুলিশ সদর দপ্তরের পাঠানো প্রস্তাবনায় ভেটিং হয়। ইউনিফর্মের রঙ চূড়ান্ত করে ফিরতি বার্তা পাঠানো হয় পুলিশ সদর দপ্তরে।
সংশোধিত নুতন গেজেটে বলা হয়, জেলাসহ অন্যান্য ইউনিটের পুলিশের জন্য গাঢ় নীল রঙের শার্ট হবে, সব মেট্রোপলিটন পুলিশের জন্য হবে হালকা অলিভ (জলপাই) রঙের শার্ট। তবে জেলাসহ সব ইউনিটের পুলিশের প্যান্টের রঙ হবে খাকি। তবে এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি এবং র্যাব এই পোশাকের আওতামুক্ত থাকবে। অর্থাৎ, তাদের পোশাক পরিবর্তন হয়নি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশে সংস্কারের দাবি ওঠে। কেউ কেউ পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের দাবিও করেন। এমন পরিস্থিতিতে গত বছর ২০ জানুয়ারি আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়। পুলিশের সব সদস্যের জন্য নির্ধারিত হয় আয়রন (লোহা) রঙের পোশাক। গত বছর ২৫ নভেম্বর নতুন পোশাকে মাঠে নামে পুলিশ।
যদিও সেই পোশাক নিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল। অনেক পুলিশ সদস্য পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না। তারাও পোশাকের রঙ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা বলছেন, এই রঙয়ের পোশাক দেখতে ভালো লাগছে না। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে ট্রল হওয়ায় তারা অস্বস্তি বোধ করেন।
বিএনপি সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর ২৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।
সংগঠনটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশের জন্য যে নতুন পোশাক নির্বাচন করেছে, সেখানে পুলিশ সদস্যদের গায়ের রঙ, আবহাওয়া এবং সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। কোনো প্রকার জনমত যাচাই ছাড়াই নির্বাচিত এই পোশাকের সঙ্গে ইউনিফর্মধারী অন্যান্য সংস্থার পোশাকের হুবহু সাদৃশ্য রয়েছে। এ কারণে মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য তড়িঘড়ি করে নেওয়া এই পরিবর্তনের পক্ষে নন।




