আসছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ থাকছে না বেজা বিডা

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সরকারি চার সংস্থার সমন্বয়ে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। সংস্থাগুলো হলো— বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) ও বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ)। এর মধ্যে তিনটি সংস্থাই বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন।
শিগগির এই চার প্রতিষ্ঠানের জনবল এবং বিদ্যমান আইন ও বিধি পর্যালোচনা করে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’ খসড়া চূড়ান্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ১১ মে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাগুলো একত্রীকরণের অগ্রগতি বৈঠকে এ নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান। তবে বিষয়টি নিয়ে নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা।
একাধিক কর্মকর্তা জানালেন, চার সংস্থার সমন্বয়ে প্রস্তাবিত নতুন সংস্থা গঠনে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিস্তারিত আলোচনায় অংশ নেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) আশিক চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এহছানুল হক ও লেজিসলেটিভ বিভাগের সচিব হাফিজ আহমেদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সভায় পাঁচটি সিদ্ধান্ত হয়। এগুলো হলো— একীভূত নতুন সংস্থাটি ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নামে অভিহিত হবে এবং এজন্য ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’ অনুমোদন হবে। আপাতত হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের (বিএইচটিপিএ) বিদ্যমান আইন বহাল থাকবে। বিএইচটিপিএকে পরবর্তী সময়ে নবসৃষ্ট সংস্থার সঙ্গে একীভূত করার জন্য বিশেষ বিধানের ব্যবস্থা নতুন আইনে রাখা হবে। একীভূতের আগে উভয় কর্তৃপক্ষ পরস্পরের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একীভূতকরণের দিনক্ষণ নির্ধারণ করবে। অথবা নতুন আইনে বিশেষ বিধান আনা হবে, যার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ সুনির্দিষ্ট জোন পরিচালনার এখতিয়ার অন্য সরকারি মন্ত্রণালয় বা সংস্থাকে অর্পণ করতে পারবে।
একীভূতকৃত সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাপ্য বেতন ও অন্যান্য সুবিধাদি নবসৃষ্ট আইনের প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হবে। প্রস্তাবিত আইনের খসড়া যাচাই-বাছাইপূর্বক চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন হবে।
এর আগে সরকারি ছয়টি সংস্থার সমন্বয়ে একটি প্রতিষ্ঠান করার উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। উল্লিখিত চারটির সঙ্গে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াজাত এলাকা (বেপজা) এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ছিল। এই ছয় সংস্থাকে একত্রীকরণের যৌক্তিকতা যাচাই, আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সুপারিশ প্রণয়নে ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এই কমিটির উপদেষ্টা রাখা হয়েছিল রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে। আর কমিটির সভাপতি করা হয় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণিকে। ওই কমিটি একাধিক বৈঠক করে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ১১ মে বৈঠক হয়।
কমিটির এক সদস্য জানালেন, প্রথম বৈঠকে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল— বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ যেহেতু বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য কাজ করে, সেহেতু প্রাথমিক পর্যায়ে এই দুটি সংস্থাকে একত্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। একত্রীকরণের সাফল্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী পর্যায়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও বাংলাদেশ হাই-টেক কর্তৃপক্ষকে (বিএইচটিপিএ) একীভূত করা যেতে পারে। এই উদ্যোগগুলো সফল হলে অবশিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বেজার আওতাধীন অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে দেশি ও বিদেশি রপ্তানিমুখী শিল্পাঞ্চল হিসেবে বিভাজন করা যেতে পারে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়। নবসৃষ্ট বেজার বিদেশি রপ্তানিমুখী শিল্পাঞ্চলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ট্যাক্স হলিডে ও অন্যান্য সুবিধার অসামঞ্জস্যতা দূরীকরণে এ অঞ্চলের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বেপজাকে হস্তান্তর করা যেতে পারে বলেও পরামর্শে উঠে আসে।




