জনগণই জুলাইয়ের কৃতিত্বের মালিক : তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

ছবি: আগামীর সময়
জনগণকে সব গণআকাঙ্ক্ষা ও সফলতার মূল কারিগর উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব কৃতিত্বের আসল মালিক এ দেশের সাধারণ জনগণ।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেছেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেছেন, ‘স্বাধীন দেশে এত বড় ধাক্কা ও অভ্যুত্থান আগে কখনো ঘটেনি। যখন কোনো গণআকাঙ্ক্ষা দানা বাঁধে, শাসকগোষ্ঠী তা অনুধাবন করতে পারে না। ইতিহাসে এটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে। শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে এক যাত্রার সমাপ্তি ঘটেছে।’
রাজনীতিতে ক্রেডিট নেওয়ার প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, ‘আমি প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। রাজনীতিকে একটি ইবাদতের মতো চর্চা করি। অথচ লক্ষ করছি, ইদানীং একদল লোক অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নেওয়াতেই ব্যস্ত। জুলাইয়ের মূল স্পিরিট ও রোডম্যাপ অনুযায়ী যদি দায়িত্ব নিয়ে এগোতে হয়, তবে এত বালখিল্যতা নিয়ে চলা যাবে না। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা প্রতিটি মুহূর্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি— সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি অধিষ্ঠ লক্ষ্য অর্জনের দিকে এগিয়ে যেতে।’
মন্ত্রী বললেন, ‘আমরা বাস্তবিক বিতর্ক করতে জানি না। তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চর্চাপূর্ণ বিতর্কের সংস্কৃতি চালু করা জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ সংস্কৃতি গড়ে তোলার নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে পারে।’
ইতিহাসের ধারাবাহিকতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেছেন, ‘কারও যদি মনে হয় চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান থেকেই ইতিহাসের শুরু এবং অতীতকে মুছে ফেলা সম্ভব, তবে তারা ভুল ভাবছেন। পূর্ণাঙ্গ বাংলাদেশকে বুঝতে হলে আমাদের হাজার বছরের ইতিহাস জানতে হবে। ১৯৯০ এবং ২০২৪, উভয় অভ্যুত্থানেই আমি রাজপথে ছিলাম এবং কারাবরণ করেছি। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও আমাদের দীর্ঘ লড়াইয়ের চেতনার ভিত্তি এত সহজে ভাঙা যায় না। ঐতিহাসিক সে সত্যকে ধারণ করেই জুলাইয়ের অর্জনকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার বিশ্বাস আমাদের রয়েছে।’
আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেছেন, ‘বাংলাদেশ মূলত গণঅভ্যুত্থানের দেশ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় এসব আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্পিকার ও জাতীয় মসজিদের ইমাম পালানোর ঘটনাতেই পুরো কাঠামোর ভঙ্গুরতা প্রকাশ পেয়েছিল। দেশের এই গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত হতে দেওয়া যাবে না। সব বিভেদ ভুলে জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগোতে হবে।’





