Agamir Somoy E-Paper
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
রোগীর জন্য রক্ত সংগ্রহে ছোটেন আইয়ুব
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় জাতীয়

বিদ্যুতের কষ্টে ম্লান ঈদ আনন্দ

আগামীর সময় প্রতিবেদক
agamir somoy
প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০৭:৪২
বিদ্যুতের কষ্টে ম্লান ঈদ আনন্দ

প্রতীকী ছবি

ঈদে ছিল লম্বা ছুটি। বন্ধ ছিল স্কুল-কলেজ ও অফিস-আদালত। স্বাভাবিকভাবেই সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল কম। কিন্তু এরপরও এই ছুটিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছিল বিদ্যুৎবিভ্রাট। কোথাও কোথাও পাঁচ দিন পর্যন্ত বন্ধ ছিল বিদ্যুৎ সরবরাহ। ফলে ছুটির আমেজ উপভোগ করার বদলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে অনেক এলাকার মানুষকে।

ছুটির আগেই ঈদের সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের আগাম ঘোষণা দিয়েছিল বিদ্যুৎ বিভাগ। সেজন্য নেওয়া হয়েছিল নানা উদ্যোগও। কিন্তু ঝড়-বৃষ্টি ভেস্তে যায় সব পরিকল্পনা। দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে উল্টো ডেকে আনে ভোগান্তি। বিশেষ করে, কোরবানির মাংস সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে বাধে বিপত্তি। বিদ্যুতের অপেক্ষা করতে গিয়ে কেউ কেউ কোরবানি দিয়েছেন পরদিন। বিদ্যুতের কারণে দৈনন্দিন কাজে যেমন বিঘ্ন ঘটেছে, তেমন আয়-রোজকার কমেছে অনেক শ্রেণি-পেশার মানুষের।

অনেক গ্রাহকই তাই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, ঝড়-বৃষ্টির মৌসুম শুরু হতে না হতেই যদি এ পরিস্থিতি হয়, তাহলে সামনের দিনগুলোয় কী হবে?

দেশ জুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি বিতরণ সংস্থা। যাদের বর্তমানে গ্রাহকসংখ্যা ৪ কোটি ৯৭ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ গ্রাহক পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি)। সংস্থাটি ৮০ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে এই বিপুল গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেয় বিদ্যুৎ। আর এবার ঈদের ছুটিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হয়েছেন এই পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরাই।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্রকৌশলী (পরিচালন ও পরিকল্পনা) স্বপন বণিক আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকায় ঈদের সময় কোনো লোডশেডিং ছিল না। তবে ঝড়-বৃষ্টির কারণে বৈদ্যুতিক লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ৭০ শতাংশ সমিতির গ্রাহকরা বিদ্যুৎবিভ্রাটে পড়েন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ঈদের দুদিন আগে থেকেই বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। সরবরাহ এত কমে যায় যে, তখন বিতরণব্যবস্থা ঠিক রাখাই মুশকিল হয়ে পড়েছিল।’

পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্মীদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয় জানিয়ে তিনি বললেন, ‘তাদের দিনরাত পরিশ্রমের ফলে বিভিন্ন এলাকার লাইন মেরামত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় ধীরে ধীরে। গত শনিবার বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে কোনো সমস্যা নেই।’

প্রত্যন্ত এলাকায় গাছপালার মধ্য দিয়ে বিতরণ লাইন যায়। বিদ্যুতের মূল তারে গাছ হেলে, ডাল ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎ চলে যায়

এ সংকটের কারণ হিসেবে আরইবির কর্মকর্তারা যে সমস্যাটি চিহ্নিত করেছেন, সেটি হলো— প্রত্যন্ত এলাকায় গাছপালার মধ্য দিয়ে বিতরণ লাইন যাওয়া। তারা বলছেন, বিদ্যুতের মূল তারে গাছ হেলে, ডাল ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎ চলে যায়। এটি শনাক্ত করতে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগের ওপর ভরসা করতে হয়। কেউ না জানালে শনাক্ত করতেই লম্বা সময় লেগে যায়। বিতরণ লাইনের দুই পাশে ১০ ফুট করে গাছপালা পরিষ্কার রাখতে হয় নিয়মিত। বছরে তিনবার গাছপালা পরিষ্কার করতে প্রতিটি সমিতির ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার আলাদা বরাদ্দ আছে। এটি নিয়মিত পরিষ্কার করা যায় না, কখনো কখনো স্থানীয়দের বাধার মুখেও পড়তে হয়।

উল্টো দিকে সংস্থাটির বিরুদ্ধে নিম্নমানের পোল, তার ও বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, এসব কারণে সামান্য ঝড় হলেই পোল ভেঙে যায়, তার ছিঁড়ে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় অন্যান্য যন্ত্রাংশ।

তবে এসব অস্বীকার করলেন স্বপন বণিক। তিনি বললেন, ‘এগুলো ঠিক না। মানুষ তো কতজন কত কথাই বলে।’

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনসক্ষমতা এখন প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট। এর মধ্যে ২০ মে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। যদিও বেশিরভাগ সময় চাহিদা ১৫ হাজার মেগাওয়াট ছাড়ালেই লোডশেডিং করতে হয়।

ঈদের ছুটির প্রথম দিনে সোমবার বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল সাড়ে ১০ হাজার থেকে ১১ হাজার মেগাওয়াট। একপর্যায়ে তা সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াটে নেমে আসে। ঈদের ছুটিতে অফিস-আদালত, বিভিন্ন কারখানা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পাশাপাশি বৃষ্টির কারণেই মূলত এই চাহিদা কমে যায়। তারপরও ঝড়ের কবলে পড়ে বিভিন্ন জেলায় বিদ্যুৎবিভ্রাট দেখা দেয়।

২৬ মে দিনভর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্কে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়। বিশেষ করে মধ্যাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা এবং দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোয় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ছিল বেশি। অনেক এলাকায় একবার লাইন মেরামতের পর আবার ঝড়ের কারণে তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মাদারীপুরের বিভিন্ন গ্রামে টানা পাঁচ দিন বিদ্যুৎ ছিল না। ফলে দুর্বিষহ হয়ে ওঠে সেখানকার বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবন।

রাজারচর, চরহোগলপাতিয়া, হোগলপাতিয়া, মাদ্রা, আলিনগর, কোলচুরি ও আশপাশের অনেক এলাকায় ঈদের দুদিন আগে থেকেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় বিদ্যুৎ সরবরাহ।

রাজারচর এলাকার বাসিন্দা রুবেল ফরাজী বলেছেন, ‘পাঁচ দিন বিদ্যুৎ ছিল না। অফিসে ফোন দিলে কেউ ধরেন না। কোরবানির অনেক মাংস নষ্ট হয়ে গেছে। আত্মীয়দেরও দিতে পারিনি। এই দুর্ভোগের দায় কে নেবে?’

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি গ্রামে ঈদুল আজহার আগের দিন থেকে ঈদের দিন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় নির্ধারিত দিনে পশু কোরবানি দেননি অনেকে। পরদিন বিদ্যুৎ এলে কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা সারেন তারা।

কালবৈশাখী ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। পুরো উপজেলায় মাত্র ৪০ ভাগ বিদ্যুৎ ছিল। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকেই ফ্রিজ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার সংকটের কথা বিবেচনা করে কোরবানি স্থগিত রাখেন।

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি না থাকলেও প্রতিনিয়ত সাত থেকে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। সামান্য বাতাস কিংবা বৃষ্টি হলেই সঞ্চালন লাইনে ত্রুটির কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে। মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও কৃষিকাজে পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে ক্ষোভ চরমে পৌঁছায়।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেছেন, ‘হাসপাতালেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। অনেক সময় একটানা ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে আইপিএসের ব্যাটারি চার্জ হয়ে ব্যাকআপ নেওয়ার সুযোগ পায় না।’

তবে এখন কয়রায় কোনো লোডশেডিং নেই, দাবি করলেন খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক মো. মাহফুজুর রহমান খান।

 

প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন আগামীর সময়ের সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি।

বিদ্যুৎঈদ আনন্দবিদ্যুৎবিভ্রাটনিরবচ্ছিন্নজাতীয়
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    advertiseadvertise