ফায়েক উজ্জামান
মুক্তিযুদ্ধে সবাইকে একত্র করেছিল মুজিবনগর সরকার

সংগৃহীত ছবি
‘সব মানুষ একত্র করে বহুমাত্রিক কাজের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে জনযুদ্ধে রূপান্তর ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এর স্বীকৃতি আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে মুজিবনগর সরকার, যা প্রবাসী সরকার নামেও পরিচিত।’
সেমিনারে একক বক্তৃতায় শুক্রবার এসব কথা বলেছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান। সেমিনারটি আয়োজন করা হয় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে। বক্তৃতার বিষয় ছিল ‘মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকার : গঠন ও তাৎপর্য’।
‘এ সরকারের নেতৃত্বগুণেই মুক্তিযুদ্ধকে জনযুদ্ধে রূপান্তর করতে পেরেছে ও বিজয় ছিনিয়ে এনে জন্ম হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের।’
মুজিবনগর সরকারকে কেউ কেউ ‘অস্থায়ী সরকার' বলে অবহিত করলেও এই অধ্যাপক মনে করেন, ‘এটি স্থায়ী সরকার এবং বাংলাদেশের প্রথম সরকার। বর্তমান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।’
‘এ সরকার আর্থিক খাত নিয়ে যেমন কাজ করেছে, তেমনি নেতৃত্ব দিয়েছে বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়েও। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় ১১ সামরিক সেক্টরের পাশাপাশি বেসামরিক প্রশাসনের জন্য জোনাল কাউন্সিল গঠন করে এ সরকার। সবদিকেই এ সরকারের বিচক্ষণ নেতৃত্ব বাংলাদেশের বিজয় ছিনিয়ে আনে’— যোগ করেন অধ্যাপক ফায়েক উজ্জামান।
স্বাগত বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলী বলেছেন, ‘মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়েছিল সাম্যের, মর্যাদার ও সমতার রাষ্ট্রের স্বপ্ন নিয়ে। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় এ দেশের জন্য একটি বড় অর্জন। মুজিবনগর সরকার ঠিকমতো কাজ করেছেন বলেই সফলতা পেয়েছি আমরা। তাদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।’
‘আমাদের দুর্ভাগ্য, ভেঙে ফেলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের অনেক ভাস্কর্য। তার মধ্যে আছে মেহেরপুরের আম্রকাননের ভাস্কর্যও। রাষ্ট্রের কাছে আমাদের দাবি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ করুন।
অনুষ্ঠানে শিরিল ইসলাম আবৃত্তি করেন মারুফ রায়হানের লেখা কবিতা 'সবুজ শাড়িতে লাল রক্তের ছোপ'। সঞ্চালনা করেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ব্যবস্থাপক (কর্মসূচি) রফিকুল ইসলাম।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয়কে ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে মুজিবনগর সরকার। এটি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার, যা গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। এ সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা বৈদ্যনাথতলায় (বর্তমান মুজিবনগর) শপথ গ্রহণ করেন ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। মুজিবনগর সরকার গঠন হয় মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে। বঙ্গবন্ধুর নাম অনুসারে স্থানটির নামকরণ করা হয় ‘মুজিবনগর’। এ সরকার মুজিবনগরে গঠিত হয়েছে বলে নামকরণ হয়েছে ‘মুজিবনগর সরকার’।

