সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

ছবি: পিআইডি
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। নতুন জায়গায় অফিস শুরু হবে ২০২৯ সালে। বর্তমানে পুরনো পল্টনের আবদুল গনি রোডে অবস্থিত সচিবালয়। এ ছাড়া মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে রবিবার বিকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানালেন মন্ত্রিপরিষদসচিব ড. নাসিমুল গনি।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় সচিবালয় স্থানান্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরের দিনই সচিবালয় স্থানান্তরের একটি প্রকল্প বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত করতে পরিকল্পনা কমিশনকে চিঠি দেয় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রিসভার সারসংক্ষেপে বলা হয়, বাংলাদেশ সচিবালয়ের বর্তমান অবস্থানে ১৭.৫৭ একর জায়গায় মোট ১৩টি ভবন আছে। এরমধ্যে ৮টি ভবন স্বাধীনতা-পূর্বকালে নির্মিত। সচিবালয়ের পুরনো ১ ও ২, ৩ ও ৮ নম্বর ভবনগুলো ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালে, ৫ নম্বর ভবনটি ১৯৪৭ সালে নির্মিত হওয়ায় ভূমিকম্প সহনীয় হিসেবে নির্মিত হয়নি। ঢাকা শহর ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় ওই স্থাপনাগুলো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়/বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা করা ঝুঁকিপূর্ণ।
এ ছাড়া ভবনগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহারযোগ্য পর্যাপ্ত স্পেস না থাকায় স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। পর্যাপ্ত ওয়াশ-ব্লক না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহৃত হওয়ায় স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। সচিবালয়ে মোট অফিস স্পেস প্রায় ১৮ দশমিক ৭৬ লাখ বর্গফুট। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত অফিস স্পেসের চাহিদা এবং সচিবালয়ের কম্পাউন্ডের বাইরে অবস্থিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগের স্থান সংকুলানের জন্য আরও প্রায় ১০ লাখ বর্গফুটের বেশি অফিস স্পেস প্রয়োজন।
এ বিষয়ে একনেক সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে, লুই আই কানের মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী ঢাকার শেরেবাংলা নগরের পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থাপনের লক্ষ্যে স্থাপত্য অধিদপ্তর কর্তৃক ধারণাগত স্থাপত্য নকশা প্রণয়ন করা হয়।
প্রণীত নকশা অনুযায়ী শেরেবাংলা নগরের পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠের ৩১ দশমিক ৫৮ একর জায়গায় মোট প্রায় ৩৩ দশমিক ১৬ লাখ বর্গফুট স্পেসসংবলিত ৩টি বেজমেন্টসহ (২০০টি ভূ-উপরিস্থ পার্কিংসহ ৩,৮০০টি গাড়ি পার্কিং) ১৪টি ১২-তলা ভবন (মসজিদ, ৩৫০ জন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ২টি মালটিপারপাস হল, ১টি ক্যাফেটেরিয়া, ১টি ডাকঘর ইত্যাদি) নির্মাণ করা হবে। প্রকল্প এলাকায় প্রায় ৩০% জায়গায় সবুজায়ন ও জলাধারের সংস্থান রাখা হয়েছে।
নাসিমুল গনি আরও জানান, বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিসভার সারসংক্ষেপে বলা হয়, আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাসসহ বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ কমানো, অধিকতর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
আগামী গ্রীষ্মের আগে ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সরকার এরই মধ্যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। সরকার কর্তৃক নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য এরই মধ্যে সব সরকারি/আধাসরকারি/ স্বায়ত্তশাসিত/স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান/সরকারি কোম্পানির স্থাপনার ছাদে বিনিয়োগকারীর অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সেই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় আছে, তাদের ভবিষ্যৎ আয় বিবেচনায় ক্যাপিটাল এক্সপেনডিচার (ক্যাপেক্স) মডেলে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনেরও সুযোগ রাখা হয়েছে।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে ওপেক্স মডেলে স্থাপনের ক্ষেত্রে গ্রাহক কর্তৃক দীর্ঘ (১৫ বছর) মেয়াদে বিদ্যুৎ ব্যবহারের মূল্য নির্ধারণ, ছাদের ভাড়া হিসেবে বিদ্যুতের শেয়ার এবং রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধিবিধান নেই। সেই সঙ্গে ক্যাপেক্স মডেলে সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন এবং সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬; ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬ এবং বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮-তে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধিবিধান না থাকায় ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়।



