নতুন তিন মেট্রোরেল কোন রুটে

মেট্রোরেল- সংগৃহীত ফাইল ছবি
রাজধানীর যানজট কমানো ও গণপরিবহনব্যবস্থায় গতি আনতে নতুন তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্পের পথে এগোচ্ছে সরকার। এর মধ্যে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) অর্থায়িত এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ নর্দান রুটের সংশোধিত ব্যয় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নে নতুন এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুটও অনুমোদন পেয়েছে।
বুধবার অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্প তিনটি অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে এমআরটি লাইন-১ ও লাইন-৫ নর্দান রুটের ব্যয় ও মেয়াদ সংশোধনের প্রস্তাব ছিল। শুরুতে একনেকের মূল এজেন্ডায় শুধু এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট প্রকল্পটি উপস্থাপনের কথা থাকলেও পরে অপর দুটি প্রকল্পও একই সভায় তোলা হয়।
জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। প্রকল্পটির একটি অংশ হবে পাতাল এবং অন্য অংশ উড়ালপথে।
বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১৯ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার অংশে হবে পাতাল রেল। এই অংশে থাকবে ১২টি আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশন। স্টেশনগুলো হলো—এয়ারপোর্ট, এয়ারপোর্ট টার্মিনাল-৩, খিলক্ষেত, নদ্দা, নতুনবাজার, উত্তর বাড্ডা, বাড্ডা, আফতাবনগর, রামপুরা, মালিবাগ, রাজারবাগ ও কমলাপুর।
অন্যদিকে নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত ১১ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার অংশ হবে উড়ালপথে। এই অংশে থাকবে সাতটি স্টেশন—জোয়ারসাহারা, বোয়ালিয়া, মোস্তুল, ক্রিকেট স্টেডিয়াম, পূর্বাচল সেন্টার, পূর্বাচল ইস্ট ও পূর্বাচল টার্মিনাল।
এমআরটি লাইন-৫ নর্দান রুট হবে সাভারের হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত। ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এ রুটে মোট ১৪টি স্টেশন থাকবে। এর মধ্যে নয়টি হবে পাতাল এবং পাঁচটি উড়ালপথে।
পাতাল অংশের স্টেশনগুলো হলো—গাবতলী, দারুস সালাম, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, মিরপুর-১৪, কচুক্ষেত, বনানী, গুলশান-২ ও নতুনবাজার। উড়াল অংশের স্টেশন হবে হেমায়েতপুর, বলিয়ারপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার ও ভাটারা এলাকায়।
এদিকে নতুন এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট হবে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত। মোট ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ প্রকল্পের মধ্যে ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার হবে পাতালপথ। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। এ প্রকল্পে এডিবি ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে অর্থায়ন করবে।
রাজধানীর উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ অংশকে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার ক্ষেত্রে নতুন তিনটি লাইন গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ তৈরি করবে। বিমানবন্দর, কমলাপুর, পূর্বাচল, সাভার, মিরপুর, গুলশান, ভাটারা ও দাশেরকান্দির মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এসব রুটের সঙ্গে যুক্ত হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন লাইনগুলো চালু হলে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তের মধ্যে দ্রুত গণপরিবহন যোগাযোগ তৈরি হবে। তবে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন, ব্যয় ও সময়সূচি নির্ভর করবে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়ার ওপর।



