আজ জাতীয় নুডলস দিবস
১২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ নুডলসের বাজারে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ভাত-পিঠা-পুলির দেশ বাংলাদেশে গত দুই দশকে নুডলস হয়ে উঠেছে জনপ্রিয় খাবারের একটি। দ্রুত নগরায়ণ, কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি ও ব্যস্ত জীবনযাত্রায় সহজে প্রস্তুত করা যায়— এমন খাবারের চাহিদা বাড়ায় নুডলসের বাজারও দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। বর্তমানে দেশে নুডলসের বাজারের আকার আনুমানিক ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। স্থানীয় চাহিদা মেটাতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ খাতে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছে।
শুধু দেশীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই এ শিল্প। বাংলাদেশে উৎপাদিত নুডলস এখন মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। ফলে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও অ্যাগ্রো-প্রসেসিং খাতে নুডলস নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
স্বাধীনতার পর সত্তর ও আশির দশকে চীন, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া থেকে সীমিত পরিসরে এগ ও স্টিক নুডলস আমদানি করা হতো। তখন এটি মূলত শহুরে উচ্চবিত্তের খাবার হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৮৭ সালে কোকোলা ফুড প্রোডাক্টস দেশে বাণিজ্যিকভাবে স্টিক নুডলস উৎপাদন শুরু করলে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। পরে ১৯৯০-এর দশকের শেষদিকে নেসলে বাংলাদেশে ‘ম্যাগি ২-মিনিট ইনস্ট্যান্ট নুডলস’ উৎপাদন ও বাজারজাত শুরু করে। এতে নুডলস দ্রুত সাধারণ ভোক্তার কাছে পৌঁছে যায়।
শিল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৩০-৩৫ হাজার টন নুডলসের চাহিদা রয়েছে। মোট বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশ ইনস্ট্যান্ট নুডলস এবং বাকি ২০ শতাংশ স্টিক নুডলস ও পাস্তা। বার্ষিক বাজার প্রবৃদ্ধি প্রায় ৭-৮ শতাংশ। বাজারে নেসলের ‘ম্যাগি’, প্রাণ-আরএফএলের ‘মি. নুডলস’, কোকোলা, ফ্রেশ, এসিআই, স্কয়ার ও বসুন্ধরা উল্লেখযোগ্য ব্র্যান্ড।
বাজার সম্প্রসারণের সঙ্গে বাড়ছে উৎপাদন সক্ষমতায় বিনিয়োগও। একটি বিশ্বমানের স্বয়ংক্রিয় নুডলস উৎপাদন লাইন স্থাপনে ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ও আধুনিক প্যাকেজিং প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করছে।



