সুযোগ বুঝে গ্যাসের বাসও পকেট কাটছে যাত্রীর
- শুধু ডিজেলচালিত বাস-মিনিবাসের ভাড়া বাড়িয়েছে সরকার
- বেড়েছে সিএনজিচালিত বাসের ভাড়াও

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে প্রতিবার সমানুপাতে বাড়তে থাকে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবহারকারীদের মেজাজ। তাদের দিন শুরু হয় বাসচালকের সহকারীর সঙ্গে বচসা দিয়ে, শেষও হয় একইভাবে। কারণ, তেলের দাম বাড়লে সরকারিভাবে যেটুকু ভাড়া বাড়ানো হয়, আদতে আদায় করা হয় তার চেয়েও বেশি। কখনো খুচরো নেই এ অজুহাতে, আবার কখনো মালিকের নির্দেশ; এ অজুহাতে।
এমনকি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (সিএনজি) দাম না বাড়লেও, ভাড়া বাড়িয়েছে সিএনজিচালিত বাসগুলোও। স্বাভাবিকভাবেই যাত্রীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। প্রতিবারের মতো এবারও যাত্রীদের ভোগান্তি দেখার জন্য আসলে কেউ নেই।
গত ২৩ এপ্রিল ডিজেলসহ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সব ধরনের বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সরকার। পরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে রাজধানীতে সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, গ্যাসচালিত বাসের ক্ষেত্রে এ নতুন ভাড়া কার্যকর হবে না।
বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এ নির্দেশনা মানা হচ্ছে না অনেক ক্ষেত্রেই। উত্তরা-গুলিস্তান-কদমতলী, উত্তরা-বাসাবো-যাত্রাবাড়ী-জুরাইন, উত্তরা-শাহবাগ-গুলিস্তান, উত্তরা-মিরপুর ইত্যাদি রুটে ভিক্টর, আজমেরী, অনাবিল, প্রজাপতি, রাইদা ও বসুমতিসহ বেশ কিছু পরিবহনের বাস চলাচল করে। এসব বাসের বেশিরভাগই চলে সিএনজিতে। অথচ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর এ রুটের বেশিরভাগ বাসেই বর্ধিত হারে আদায় করা হচ্ছে ভাড়া। ফলে যাত্রীদের সঙ্গে বাসচালক ও সহকারীর ঝগড়া এখন নৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে।
আবদুল্লাহপুর থেকে শাহবাগ রুটে যাতায়াতকারী আব্দুল আজিজ জানান, আগে ভাড়া ছিল ৩৫, এখন ১০ টাকা বাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে ৪৫ টাকা।
একইভাবে গুলিস্তান থেকে মোগড়াপাড়া রুটে ভাড়া ৬৫ থেকে বেড়ে ৭০ টাকা হয়েছে, শাহবাগ থেকে গোড়ানের ভাড়া ২০ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩৫ টাকা।
একাধিক যাত্রীর সঙ্গে কথা বলেছে আগামীর সময়। তাদের অভিযোগ, গ্যাসের দাম না বাড়লেও কেন সিএনজিচালিত বাসের ভাড়া বেড়েছে। কেন এই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে সে প্রশ্নও রাখেন। এ বিষয়ে কয়েকটি রুটের সিএনজিচালিত বাসের চালক ও সহকারীদের সঙ্গেও কথা বলার চেষ্টা করা হয়। তবে তাদের বেশিরভাগই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অবশ্য কয়েকজন সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন। তাদের বক্তব্য হলো, তেলের দাম বাড়লে সবকিছুর দাম বাড়ে। চাল থেকে শুরু করে সবজি, সব নিত্যপণ্যের দামেই যুক্ত হয় বাড়তি অর্থ। সিএনজির দাম না বাড়লেও গ্যাসচালিত গাড়ির চালক বা সহকারীদের তো বাড়তি দামেই সব কিনে খেতে হয়। তাহলে কেন তারা বাড়তি ভাড়া নেবেন না, উল্টো প্রশ্ন রাখলেন।
কেন বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, গ্যাসচালিত বাসের ভাড়াও সমন্বয় করা হবে কি না, কিংবা বাড়তি ভাড়া আদায়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এসব বিষয়ে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মীর আহমেদ তরিকুল ওমরের সঙ্গে। তবে কয়েকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বাড়তি ভাড়া আদায়ের একটি যুক্তি দিলেন প্রজাপতি বাসের চালকের এক সহকারী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বললেন, ‘ঢাকার বেশিরভাগ বাসই ডিজেলচালিত। তবে সিএনজি স্টেশনগুলোয় অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ লাইন থাকে। তাই অনেক সময় অপেক্ষার পর গ্যাস মেলে। এতে ট্রিপ কমে আয় কমে যায়। এ ছাড়া সিএনজিচালিত বাসের রক্ষণাবেক্ষণ খরচও বেশি। যে কারণে বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।’
অবশ্য কিছু কিছু সিএনজিচালিত বাসে আগের ভাড়া নিতেও দেখা গেছে। রাইদা পরিবহনের একটি বাসের চালক ইজাজুল বলছিলেন সে কথাই। বললেন, ‘আমরা সিএনজিতে বাস চালাই। তাই বাড়তি ভাড়া নিচ্ছি না।’ কিন্তু সুযোগ পেয়ে কিছু কিছু বাস অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে—এ কথাও জানালেন তিনি।





