সাংবাদিক কর্মশালা
প্যাকেটের খাবারেই লুকিয়ে রোগের ফাঁদ, দ্রুত এফওপিএল চালুর তাগিদ

ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ক্ষতিকর চর্বিযুক্ত অতি-প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটজাত খাবারের ব্যবহার বাড়ায় অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। কিন্তু প্যাকেটের পেছনে ছোট অক্ষরে লেখা জটিল পুষ্টি তথ্য দেখে কোনো খাবারে এসব উপাদান অতিরিক্ত রয়েছে কি না, তা সাধারণ ভোক্তার পক্ষে দ্রুত বোঝা কঠিন। এ পরিস্থিতিতে ভোক্তাকে সহজে সতর্ক করতে প্যাকেটের সামনের অংশে স্পষ্ট সতর্কবার্তা বা ‘ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল)’ চালুর দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে তরুণ ও সব বয়সী মানুষের মধ্যে অস্বাস্থ্যকর প্যাকেটজাত খাবারের ব্যবহার বাড়ছে। এ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে এফওপিএল প্রবিধানমালা দ্রুত চূড়ান্ত করে বাস্তবায়ন করা জরুরি।
রাজধানীর বিআইপি কনফারেন্স রুমে ২৪ ও ২৫ আগস্ট ‘বাংলাদেশে ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল): প্রয়োজনীয়তা, অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী সাংবাদিক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এ কর্মশালার আয়োজন করে। এতে প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের ২৬ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশ ঘটে। এসব রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। বিশেষ করে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ক্ষতিকর চর্বিযুক্ত অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ব্যাপক ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে খাদ্যপণ্যের প্যাকেটের পেছনে থাকা পুষ্টি তথ্য সাধারণ ভোক্তার জন্য অনেক সময় জটিল ও দুর্বোধ্য। ফলে কোনো পণ্যে অতিরিক্ত লবণ, চিনি বা ক্ষতিকর চর্বি রয়েছে কি না, তা কেনার সময় দ্রুত শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
প্যাকেটের সামনের অংশে সহজবোধ্য সতর্কবার্তা থাকলে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ভোক্তা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো খাবারের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে জানতে পারবেন। এতে অস্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার প্রবণতা কমতে পারে বলে মনে করেন তারা।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বললেন, ‘খসড়া প্রবিধানমালাটি বর্তমানে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষে এটি দ্রুতই চূড়ান্ত হবে বলে আমরা আশাবাদী।’
ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম উল্লেখ করেন, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে এফওপিএল একটি বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা। এটি ভোক্তাকে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের স্বাস্থ্যঝুঁকি সহজে বুঝতে সাহায্য করবে।
জিএইচএআইয়ের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, অসংক্রামক রোগে মৃত্যু এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এফওপিএল প্রবিধানমালা দ্রুত চূড়ান্ত ও বাস্তবায়ন করা জরুরি।
চ্যানেল ২৪-এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম মত দেন, অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় এফওপিএলের কার্যকারিতা তুলে ধরে গণমাধ্যমে নিয়মিত আলোচনা ও বিশ্লেষণ হলে খসড়া প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করার পথ আরও সুগম হবে।
কর্মশালায় আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স-আত্মার কো-কনভেনর মিজান চৌধুরী এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞার কর্মসূচি প্রধান হাসান শাহরিয়ার ও প্রোগ্রাম অফিসার শবনম মোস্তফা।
বক্তারা বলেন, শুধু ভোক্তাকে সচেতন করাই যথেষ্ট নয়; প্যাকেটজাত খাবারের মোড়কেই সহজ ভাষায় সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির তথ্য তুলে ধরার ব্যবস্থা করতে হবে। এফওপিএল দ্রুত চালু করা গেলে অস্বাস্থ্যকর খাবার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ভোক্তার সিদ্ধান্ত আরও সচেতন হবে। দীর্ঘ মেয়াদে খাদ্যাভ্যাসজনিত অসংক্রামক রোগের বোঝা কমাতেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।






