লুণ্ঠিত শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা হবে: মাহদী আমিন

বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ছবি : আগামীর সময়
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের বিপর্যস্ত ও লুণ্ঠিত শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
তিনি বলেছেন, সবাই মিলে আমরা এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা বিনির্মাণ করব, যেখানে শিক্ষার্থীরাই হবে আগামী বাংলাদেশ গড়ার মূল কারিগর ও অগ্রদূত।
আজ বুধবার সকালে আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন উল্লেখ করেন, নির্বাচনী ইশতেহার ও পথযাত্রায় প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে যে সুনির্দিষ্ট ও সুবিস্তীর্ণ লক্ষ্য দেখিয়েছেন, তার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে আজ দেশের প্রায় ৬৫ হাজার স্কুলে একযোগে ২ লক্ষাধিক বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা শুধু এই গাছ রোপণই করবে না, তারা নিজ নিজ বিদ্যালয়ে এগুলো পরিচর্চাও করবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সুনাগরিকত্ব ও নৈতিকতার বিকাশ ঘটবে, যা বাংলাদেশের পতাকাকে বিশ্বদরবারে আরও উঁচুতে তুলে ধরবে, যোগ করেন গণশিক্ষা উপদেষ্টা।
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মাহদী আমিন বললেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান অনস্বীকার্য। তার হাত ধরেই দেশজুড়ে গণশিক্ষা ছড়িয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যাত্রা শুরু হয়। আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বারবার তৃণমূলে ছুটে গিয়ে নিশ্চিত করতে চেয়েছেন যেন দেশের প্রতিটি প্রান্তে ভালো শিক্ষক, যোগ্য শিক্ষার্থী এবং যুগোপযোগী কারিকুলাম থাকে।
তিনি আরও জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে শিক্ষার্থীদের মেধা ও ইচ্ছাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। যার যে বিষয়ে পড়তে ভালো লাগে, রাষ্ট্র ও সরকারের পক্ষ থেকে তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ভিশন অনুযায়ী সংস্কৃতি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বছরজুড়ে দেশব্যাপী বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে, যার মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন পাবে। ইতোমধ্যে অত্যন্ত স্বল্প সময়ে ২২ লক্ষ প্রাথমিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একটি ফুটবল প্রতিযোগিতার সফল আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামীতে ‘প্রাইম-মিনিস্টার্স ফুটবল গোল্ড কাপ’ আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে সারা দেশের ৬৪টি জেলা থেকে উঠে আসা প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অদম্য স্পৃহার প্রশংসা করে উপদেষ্টা বললেন, বন্যাকবলিত ৭টি জেলার শিক্ষার্থীরাও নানা প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির এই ছোট্ট শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাদের আবেগ ও ভালোবাসা প্রমাণ করে—একজন জনগণের নেতা যখন রাষ্ট্র পরিচালনায় আসেন, তখন কীভাবে দেশের মানুষের ভাগ্য বদলে যায়। এবারের আয়োজনটি তৃণমূলের ক্ষমতায়ন ও গণতান্ত্রিক সরকারের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্নের এক অনন্য প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।





