পার্বত্য ৩ জেলা : দুর্গম ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টারে যাচ্ছে নির্বাচনী সরঞ্জাম

সংগৃহীত ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে পাহাড়ি দুর্গম কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে হেলিকপ্টারে। রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির প্রতিটি কেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সরঞ্জাম নিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। অতি দুর্গম কেন্দ্রগুলোতে সরঞ্জাম পৌঁছাতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটির ২১৩ ভোটকেন্দ্রের সব ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। জেলার জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি ও বাঘাইছড়ির অত্যন্ত দুর্গম কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী সরঞ্জাম ও কর্মকর্তাদের পৌঁছাতে প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কাপ্তাই হ্রদবেষ্টিত কেন্দ্রগুলোর জন্য স্পিডবোট ও ইঞ্জিনচালিত বোটের বিশেষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
রাঙামাটি জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমা আশরাফী গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচনী প্রস্তুতি অনেক আগে থেকে শুরু হয়েছে, তা এখনো চলমান। নির্বাচন উৎসবমুখর করতে যা যা করণীয় তা করা হচ্ছে।
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, আলীকদম উপজেলার ১১টি ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টারে পাঠানো হচ্ছে নির্বাচনী সরঞ্জাম। গত শুক্রবার সকালে বান্দরবানের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এসব সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়।
সরঞ্জাম গ্রহণ করেন সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা, নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা, থানচি ও আলীকদম উপজেলায় নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা।
বান্দরবানের রিটার্নিং কর্মকর্তা শামীম আরা রিনি গণমাধ্যমকে বলেন, বান্দরবানের ৭ উপজেলায় মোট ভোটকেন্দ্র ১৮৭টি। এর মধ্যে ৪টি দুর্গম উপজেলার ৫ ইউনিয়নের ১১টি ভোটকেন্দ্রে ভোটের সরঞ্জাম আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে হেলিকপ্টার। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং ৭ উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর পাশাপাশি ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।
খাগড়াছড়ির ২০৩ কেন্দ্রের মধ্যে তিনটি কেন্দ্রে ব্যবহার হচ্ছে হেলিকপ্টার। যাতায়াতের ব্যবস্থা বিবেচনাসহ দুর্গম হওয়ায় ভোটদানের আগে থেকে এই কেন্দ্রগুলোয় হেলিকপ্টার ব্যবহার হয়ে আসছে। আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে অতি দুর্গম তিনটি ভোটকেন্দ্রে সরঞ্জাম নেওয়া শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এস এম শাহাদাত হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শুধু ব্যালট বাক্স ও প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সরঞ্জাম নয়, সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদেরও হেলিকপ্টারে ওই দুর্গম ভোটকেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হবে। ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা ও যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে এসব কেন্দ্রে বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে হেলিকপ্টার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, দীঘিনালা উপজেলার নাড়াইছড়ি এবং লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার শুকনাছড়ি ও বর্মাছড়ি ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টার করে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হবে। পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ি আসনের মধ্যে এসব কেন্দ্রকে সবচেয়ে বেশি দুর্গম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
খাগড়াছড়িতে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৪ হাজার ১১৪ জন। জেলার ২০৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে সম্প্রতি চারজন সংসদ সদস্য প্রার্থী দাবি করেছেন, এসব কেন্দ্রের মধ্যে ১২১টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৬৮টি কেন্দ্র ‘রেড মার্ক’ হিসেবে চিহ্নিত। এসব কেন্দ্রকে ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর প্রস্তুতি নিয়েছে। এ আসনে ১৯ প্লাটুন বিজিবি নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে।



