ঘোষণার আড়ালে ৬০ অতিরিক্ত পোশাক!
প্রায় ৬০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা নস্যাৎ

সংগৃহীত ছবি
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), সদর দপ্তর, ঢাকার একটি বিশেষ দল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স এস. বি. ট্রেডার্স’ কর্তৃক আমদানিকৃত একটি পণ্যচালানে বড় ধরনের ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য আনার অপচেষ্টা উদ্ঘাটন করেছে। সফল এই অভিযানের ফলে প্রায় ৬০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে।
গত ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখে ‘বিল অব এন্ট্রি’ নম্বর সি-৭৬৫৪৮৫-এর আওতায় আমদানিকৃত পণ্যচালানটি খালাসের ঠিক পূর্বমুহূর্তে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খালাস কার্যক্রম স্থগিত করে কায়িক পরীক্ষার উদ্যোগ নেয় সিআইআইডি। পরবর্তীতে পরীক্ষায় দেখা যায়, ঘোষণাপত্রে ২,৬৯৯ পিস পণ্যের উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে পাওয়া যায় ৪,৩১৯ পিস। অর্থাৎ ঘোষণার তুলনায় ১,৬২০ পিস (৬০.০২ শতাংশ) অতিরিক্ত পণ্য আনা হয়েছে।
কায়িক পরীক্ষায় বিভিন্ন পণ্যে ব্যাপক বৈষম্য ধরা পড়ে। যেমন ঘোষিত ‘লেহেঙ্গা অর্ডিনারি’ ২৯ পিসের স্থানে পাওয়া গেছে ৪৮ পিস। ‘লেহেঙ্গা গর্জিয়াস’ ১৩ পিসের পরিবর্তে ৫০ পিস। ‘শাড়ি প্রিমিয়াম’ ১১২ পিসের স্থানে ১২০ পিস। ‘শাড়ি সুপার’ ১১২ পিসের পরিবর্তে ৮০৩ পিস। ‘শাড়ি মিডিয়াম’ ১৭৯ পিসের স্থানে ৯০০ পিস। ‘গার্লস ওয়্যার সেট’ ১২৮ পিসের পরিবর্তে ১৪০ পিস। ‘শেরওয়ানি’ ১৮ পিসের পরিবর্তে ১২০ পিস। ‘টি-শার্ট’ ৯৪ পিসের পরিবর্তে ১২৪ পিস।
এ ছাড়া ঘোষিত ১৮৭ পিস ‘গাউন’-এর পরিবর্তে পাওয়া যায় ১০০ পিস গাউন এবং অতিরিক্ত ৮৭ পিস ‘লেহেঙ্গা অর্ডিনারি’, যা আমদানিকৃত পণ্যের ঘোষণার সঙ্গে স্পষ্ট অসামঞ্জস্য নির্দেশ করে।
সিআইআইডির এই অভিযানের মাধ্যমে ৩১ লাখ ৭১ হাজার ১৬৯ টাকা শুল্ক-কর ফাঁকির অপচেষ্টা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। এর সঙ্গে সমপরিমাণ জরিমানা বিবেচনায় মোট আদায়যোগ্য অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬০ লাখ টাকা।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন ঢাকা কাস্টম হাউসে পাঠানো হয়েছে। রাজস্ব সুরক্ষা প্রদান ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য এবং শুল্ক ফাঁকির বিরুদ্ধে সিআইআইডির এ ধরনের গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।




