বিআইডিএস
অনলাইনে এক পদের বিপরীতে চাকরি প্রার্থী বেড়ে ২৮৭ জন

সংগৃহীত ছবি
কোভিডের পর বেড়েছে চাকরি প্রার্থী, আর কমেছে পদের সংখ্যা। ফলে বেড়েছে চাকরির বাজারের প্রতিযোগিতা। করোনা মহামারির আগে অনলাইনে একটি পদের বিপরীতে প্রার্থী ছিল ১৭৩ জন। কিন্তু কোভিডের পর নেটি বেড়ে হয়েছে ২৮৭ জন। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক গবেষণায় বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে সংস্থাটির সন্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে গবেষণা প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হয়।
বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হকের সভাপতিত্বে গবেষণার পত্রটি উপন্থাপন করেন বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ড.অতনি রব্বানী।
প্রতিবরদনে বলা হয়েছে, করোনা মহামারির পর সংকটময় সময় পার করেছে শ্রমবাজার। এই সংকট আরও প্রকট হয়েছে ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর। দিন যত গড়াচ্ছে কঠিন হচ্ছে চাকরি পাওয়া। এখন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা গতি ফিরলেও নতুন কর্মসংস্থান তেমন হয়নি। কিন্তু বাড়ছে চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা। এ অবস্থায় চাকরির বাজরে চলছে তুমুল প্রতিযোগিতা।
বিআইডিএসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে ২০১৫ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৫৪৭ সপ্তাহের তথ্যের ভিত্তিতে। গবেষণায় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে চাকরির বিজ্ঞাপন, শূন্য পদের সংখ্যা, আবেদনের হার এবং শ্রমবাজারের সংকোচনের মতো বিষয়। গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে করোনার মহামারির মতো আকস্মিক সংকট এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপো রেটের পরিবর্তনের মতো ধীরগতির নীতিমালার প্রভাবকে। শের সবচেয়ে বড় অনলাইন চাকরির পোর্টালের তথ্যের ভিত্তিতে শ্রমবাজারের চাহিদা-জোগানের অবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক ধাক্কার প্রভাব’ শীর্ষক ওই গবেষণার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
সেমিনারে বলা হয়, করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে ২০২০ সালের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত লকডাউন কার্যকর হওয়ায় চাকরির বাজারে ভয়াবহ ধস নামে। ওই সময় চাকরির বিজ্ঞাপন ৭০ দশমিক ২ শতাংশ এবং শূন্য পদের সংখ্যা ৭৫ দশমিক ২ শতাংশ কমে যায়। বিপরীতে আবেদনের হার কমে মাত্র ৫৯ দশমিক ১ শতাংশ। ফলে প্রতিটি পদের বিপরীতে আবেদনের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৮৭ শতাংশ, যা এই গবেষণার পুরো সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।
শ্রমবাজারে অস্বাভাবিক অবস্থা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় ছিল উল্লেখ করে বিআইডিএস জানিয়েছে, লকডাউনের প্রথম সপ্তাহে এটি প্রত্যাশিত মাত্রার চেয়ে ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি ছিল। আর তিন মাস পর তা ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ, অর্থাৎ সর্বোচ্চ পর্যায়ে যায়। চাকরির বাজার স্বাভাবিক হতে প্রায় ৪১ সপ্তাহ লাগে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. এনামুল হক বললেন, শুধু করোনার প্রভাব দেখানো হলেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধও কর্মের বাজারে প্রভাব ফলেছে। সেটি এবং পরে বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানসহ পটপরিবর্তনের প্রভাব দেখা গেলে ভালো হতো।





