সংসদে তথ্যমন্ত্রী
ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকার সংখ্যা ১২৪৪টি

সংগৃহীত ছবি
রাজধানী ঢাকা থেকে বর্তমানে এক হাজার ২৪৪টি দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকা প্রকাশিত হয় বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি।
রবিবার (৭ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংরক্ষিত আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রী।
তথ্যমন্ত্রী আরও জানান, ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকা ৫৮৫টি, সাপ্তাহিক পত্রিকা ৩৬৩টি এবং মাসিক পত্রিকা ২৯৬টি। এর মধ্যে মিডিয়া তালিকাভুক্ত দৈনিক ২৮৮টি, সাপ্তাহিক ৫৬টি ও মাসিক ২৩টি পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ডিএফপিভুক্ত সংবাদপত্রের সংখ্যা ৭২১টি।
মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান তালুকদার খোকনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে ১৯৭৪ সালে করা প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট যুগোপযোগী করে প্রেস কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর ও গণমাধ্যমবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার জন্য আইনটি সংশোধন করার কার্যক্রম চলমান আছে।
এ দিকে কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ’র এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা একটি কথা স্পষ্ট বলতে চাই— দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রয়েছে। তবে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, যারা গণতন্ত্র সমুন্নত রাখার বিপক্ষে কাজ করবে, গণতন্ত্র ধূলিসাৎ করবে বা সন্ত্রাসের পক্ষে কাজ করবে— সে যেই হোক, সে আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের অনুপস্থিতিতে তথ্য প্রতিমন্ত্রী উত্তর দেন।
সম্পূরক প্রশ্নে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা অবশ্যই প্রয়োজন। বিগত ১৭ বছরের বৈরি পরিবেশেও অনেক পেশাদার সাংবাদিক নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো— আওয়ামী লীগের সময়ে যেসব নামধারী সাংবাদিক গুম, খুন, ভোট চুরি, ব্যাংক ডাকাতি ও গণহত্যার বৈধতা দিয়েছেন এবং এগুলোর পক্ষে সম্মতি উৎপাদন (ম্যানুফ্যাকচারিং কনসেন্ট) করেছেন, তাদের বিষয়ে সরকার কী ভাবছে?’
জবাবে অপরাধীদের বিষয়ে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান আরও বলেন, ‘অপরাধী সে সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী বা চাকরিজীবী— যেই হোক না কেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। কেউ আইনের বিপক্ষে কাজ করলে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
অনলাইন জুয়া ও সাইবার অপরাধ নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রসঙ্গ তোলেন নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী। জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনলাইন ও ডিজিটাল মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য নীতিমালা হালনাগাদের কাজ চলছে। তাদের স্বীকৃতি, নিবন্ধন এবং পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন ছড়ানো ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণে একটি টিম কাজ করছে।
কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের প্রশ্নের জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন অনলাইন পোর্টাল ও ডিজিটাল গণমাধ্যমের অনুমোদনের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। এই নীতিমালার আলোকেই ভবিষ্যতে সকল অনলাইন মিডিয়া ও অনলাইন পোর্টালকে অনুমতি দেওয়া হবে।




