বাজেট অধিবেশনে ১৯১ প্রশ্নের জবাব দেবেন প্রধানমন্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের (বাজেট) প্রথম কার্যদিবসে শোক প্রস্তাবের সময় দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি: পিএমও
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের নায়ক, সাবেক মন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা দল আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ, সাবেক মন্ত্রী মোশাররফ হোসেনসহ কয়েকজনের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে জাতীয় সংসদ। গতকাল রবিবার সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের জন্য শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পরে তা সংসদে গৃহীত হয়। মৃতদের স্মরণে প্রকাশ করা হয় এক মিনিটের শোক। এরপর করা হয় মোনাজাত, যা পরিচালনা করেন সরকারদলীয় হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান।
সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে এবারের অধিবেশন। পুরো সময়ে সংসদ সদস্যদের ১৯১টি প্রশ্নের উত্তর দেবেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গতকাল অধিবেশনের প্রথম দিনে আরও যাদের মৃত্যুতে শোক জানানো হয়, তারা হলেন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম রহমত উল্লাহ, দবিরুল ইসলাম, এ বি এম আনোয়ারুল হক, মোসলেম উদ্দিন, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী শফিক আহমেদ এবং দশম সংসদের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আবদুল মতিন। এ ছাড়া বিএনপি সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা, অধ্যাপক এম এ মান্নান, সাবেক সংসদ সদস্য দেওয়ান শামসুল আবেদীন, জি এম ফজলুল হক, জাতীয় পার্টির সৈয়দ মো. কায়সার, আবু নূর মোহাম্মদ বাহাউল হক, গোলাম সারোয়ার মিলন এবং সিপিবির সংসদ মো. সামসুদ্দোহার মৃত্যুতে শোক জানানো হয়। পাশাপাশি জাতীয় সংসদ শোক জানায় মিরপুরে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার শিশু রামিসা, চট্টগ্রামের ফাহিমা মিম, নরসিংদীর আমিনা ও তাবাসসুম আক্তারের মৃত্যুতেও। শোক জানানোর তালিকায় ছিল স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের স্ত্রীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধির নামও।
অধিবেশনের নিয়মিত কার্যক্রমের প্রশ্নোত্তর পর্বে আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। মন্ত্রীর জবাবের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্ত্রীকে তার দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেছেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী, আপনি কিন্তু সংসদে বলেছিলেন ১ তারিখ (মে) থেকে গ্যাস যাবে। সেটি বোধহয় পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে সংসদে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রীদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। সংসদে যে প্রতিশ্রুতি দেবেন, তা ড্রিলিং বা অন্যান্য যাবতীয় আনুষঙ্গিক বিষয় স্টাডি করে তার পরে সংসদে বক্তব্য দেবেন।’
এরপর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে একে একে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, যশোর-৪ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ গোলাম রসুল, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, বিএনপি দলীয় এমপি খায়রুল কবির খোকন, ঢাকা-১ আসনের খোন্দকার আবু আশফাক, শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল, বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী ও পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলামের নানা প্রশ্নের জবাব দেন মন্ত্রী।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বললেন, ‘বাংলাদেশে এখন কোনো বিদ্যুতের ঘাটতি নেই। ঝড়-বৃষ্টি, গাছ পড়ে লাইন ছিঁড়ে যাওয়া কিংবা সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের ত্রুটির কারণে সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট হতে পারে, তবে সেটিকে লোডশেডিং বলা ঠিক নয়।’
সাংবাদিকদের প্রসঙ্গে তথ্য প্রতিমন্ত্রী: এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের (হাসনাত আব্দুল্লাহ) সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বললেন, ‘দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রয়েছে। তবে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, যারা গণতন্ত্র সমুন্নত রাখার বিপক্ষে কাজ করবে, গণতন্ত্র ধূলিসাৎ করবে বা সন্ত্রাসের পক্ষে কাজ করবে, সে যেই হোক, সে আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের অনুপস্থিতিতে তথ্য প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
রামিসা হত্যার বিচার প্রসঙ্গ: দ্রুততম সময়ে শিশু রামিসা হত্যার আসামি শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনায় আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অধিবেশনের আগে জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির তৃতীয় বৈঠকে তাদের ধন্যবাদ দেন তিনি।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে কার্য উপদেষ্টা কমিটির তৃতীয় বৈঠকে আরও অংশ নেন কমিটির সদস্য বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বিরোধী দলের উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, এ টি এম আজহারুল ইসলাম, বিরোধীদলের চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম এবং মুহাম্মদ নওশাদ জমির।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ৩টায় অধিবেশন শুরু হবে এবং ৯ জুলাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হবে। এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য ১৯১টি ও অন্যান্য মন্ত্রীর জন্য ৩ হাজার ৩৭টি প্রশ্নসহ মোট ৩ হাজার ২২৮টি প্রশ্ন পাওয়া গেছে। বিধি-৭১ এ মনোযোগ আকর্ষণের নোটিস পাওয়া গেছে ৯৮টি এবং সিদ্ধান্ত-প্রস্তাবের সংখ্যা (বিধি-১৩১) এ ২৯৩টি নোটিস পাওয়া গেছে।




