নরসিংদী-নারায়ণগঞ্জে এনবিআরের অভিযান, বন্ডের ৮০ কাউন্টের সুতা আটক

ছবি: ভিডিও থেকে
নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গোডাউন অভিযান চালিয়ে বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানি করা ৮০ কাউন্টের বিপুল সুতা আটক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা। আজ শনিবার খোলা বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে এসব সুতা পরিবহন ও মজুদ করা হচ্ছিল— এমন অভিযোগের পর পণ্যগুলো আটক করা হয়।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত আমদানিকারক, বন্ড লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান এবং সরবরাহকারী চক্রকে শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দেশীয় প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পের উদ্যোক্তারা।
আটক সুতার কার্টনে ‘চায়না অরিজিন’ ও ‘সিএম৮০এস/১’সহ বিভিন্ন পণ্যের পরিচিতি পাওয়া গেছে। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও নরসিংদীর মাধবদীর বিভিন্ন গোডাউন থেকে পুলিশ ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এসব সুতা আটক করা হয়েছে।
শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, রপ্তানিমুখী শিল্পের উৎপাদনে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল শুল্ক-কর সুবিধায় আমদানির সুযোগ দিতে বন্ড সুবিধা চালু করা হয়েছে। কিন্তু এই সুবিধায় আনা কাঁচামাল নির্ধারিত উৎপাদনে ব্যবহার না করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হলে সরকার রাজস্ব হারায়। একই সঙ্গে শুল্ক-কর পরিশোধ করে কাঁচামাল আমদানি করা দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে আটক সুতার বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা প্রয়োজন। প্রকৃত আমদানিকারক, সরবরাহকারী এবং বন্ড সুবিধার আওতায় পণ্য খালাস ও পরিবহনের পুরো প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে বন্ড ব্যবস্থার সম্ভাব্য অপব্যবহারের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।
তিনি বলেন, শুধু পণ্য আটক করলেই হবে না। পণ্যটি কার নামে আমদানি হয়েছে, কোন প্রতিষ্ঠানের বন্ড লাইসেন্সের আওতায় খালাস হয়েছে, কীভাবে সংশ্লিষ্ট গোডাউনে পৌঁছেছে এবং এর চূড়ান্ত গন্তব্য কোথায় ছিল— এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনতে হবে। দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাও নিতে হবে।
দেশীয় টেক্সটাইল মিল মালিকদের অভিযোগ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের পাশাপাশি সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলেও বন্ড সুবিধায় আমদানি করা সুতা ও অন্যান্য কাঁচামাল অননুমোদিতভাবে মজুদ ও বাজারজাতের ঘটনা রয়েছে। তাদের মতে, গোডাউনভিত্তিক যাচাই, ঝুঁকিভিত্তিক নজরদারি এবং আমদানি থেকে ব্যবহার পর্যন্ত ডিজিটাল ট্র্যাকিং জোরদার করা হলে এ ধরনের অনিয়মের উৎস শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
শিল্পোদ্যোক্তারা বলেন, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধ করতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে কোন প্রতিষ্ঠানের নামে কত পরিমাণ সুতা আমদানি হয়েছে, তার বিপরীতে কতটুকু উৎপাদন ও রপ্তানি হয়েছে এবং বন্ড হিসাবের সঙ্গে আটক পণ্যের কোনো অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।
বিটিএমএর পক্ষ থেকে ঘটনাটি তদারকির কথা জানানো হয়েছে। সংগঠনটি আটক সুতার প্রকৃত আমদানিকারক শনাক্ত, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বন্ড হিসাব যাচাই এবং তদন্তের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানিয়েছে। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য সম্ভাব্য বন্ড গুদাম ও বাজারজাতকরণ চ্যানেলেও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার অব্যাহত থাকলে দেশীয় প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্প অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারে। এতে স্থানীয় উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি তৈরি পোশাকশিল্পে দেশীয় কাঁচামাল সরবরাহব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাই নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে আটক সুতার ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে পণ্যের উৎস থেকে চূড়ান্ত গন্তব্য পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন শিল্পোদ্যোক্তারা। একই সঙ্গে প্রকৃত আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বন্ড ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।




