সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের বারসহ চারটিতে এনবিআরের অভিযান

সংগৃহীত ছবি
ঢাকার গুলশানে ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের মালিকানাধীন বলে পরিচিত ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডসহ চারটি বার ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিভিন্ন সংস্থা। অভিযানে কাগজপত্রবিহীন ২৩০ পিস লিকারসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) এনবিআরের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। রাতে সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের তথ্য জানান কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রিজভী আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘লিকারজাতীয় পণ্য মজুদ এবং শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে যারা ব্যবসা করছে, তা প্রতিহত করার লক্ষ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে চারটি দল একাধিক বারে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করেছে।’
গুলশানের ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৩০ পিস লিকার পাওয়া যায়। এসব পণ্যের বৈধ কাগজপত্র প্রতিষ্ঠানটি দেখাতে পারেনি। পণ্যগুলো একটি কাভার্ড ভ্যানে করে বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। পরে সেগুলো আটক করা হয়।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে ‘জিনশেং’ নামে একটি পণ্য পাওয়া যায়। কর্মকর্তারা জানান, এটি শর্তযুক্ত আমদানি পণ্য। ওষুধ প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের পণ্য আমদানি করা যায় না। এ পণ্যেরও কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। প্রায় এক কেজি জাফরানও পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির আমদানি ও বিক্রয়সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে যাচাই করা হচ্ছে।
গুলশানের মার্গারিটা লাউঞ্জে ৬০৮ লিটার অনুমোদিত মদ পাওয়া যায়। এর মধ্যে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত ছিল ৩৬ লিটার। পুরো মদ জব্দ করা হয়েছে।
তেজগাঁওয়ের হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনালেও অভিযান চালানো হয়। রিজভী আহমেদ জানান, হোটেল হলিডে ইন ইন্টারন্যাশনালের ভেতরের বারটি হোটেলটির নামে লাইসেন্স করা নয়। এটি হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনালের নামে পরিচালিত হচ্ছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমোদন প্রয়োজন হলেও সংশ্লিষ্টরা কোনো নথি দেখাতে পারেননি। নথিপত্র সংগ্রহ করে যাচাই করা হচ্ছে।
এ ছাড়া তেজগাঁওয়ের র’ ক্যানভাস রেস্তোরাঁ থেকে ২৯ লিটার অননুমোদিত লিকার জব্দ করা হয়েছে।
এনবিআর জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার কয়েকটি বার, রেস্তোরাঁ, কূটনৈতিক বন্ডেড গুদাম ও শুল্কমুক্ত দোকানে অবৈধ উৎস থেকে অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাত পণ্য সংগ্রহের অভিযোগ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে এসব পণ্যের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক, মূসক ও আয়কর ফাঁকি এবং অননুমোদিত গ্রাহকের কাছে সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর চারটি বিশেষ দল গঠন করে। অভিযানে এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল, মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (উত্তর)-এর কর্মকর্তারা অংশ নেন।
রিজভী আহমেদ জানান, অভিযানে পাওয়া তথ্য ও নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে শুল্ক-মূসক বা আয়কর ফাঁকি, অবৈধ উৎস থেকে অ্যালকোহল সংগ্রহ কিংবা অননুমোদিত ব্যক্তির কাছে এসব পণ্য সরবরাহের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




