এসডিজি সম্মেলনে ড. দেবপ্রিয়
এনআইডি না থাকায় পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী পান না সরকারি সুবিধা
- এসডিজি বাস্তবায়নে দ্রুতগতিতে এগোতে হবে : সমাজকল্যাণমন্ত্রী
- সরকার সবার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে চায় : মাহদী আমিন

এসডিজি সম্মেলনে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, দেশের পিছিয়ে পড়া বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাচ্ছেন না। ফলে তারা সরকারের বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই এনআইডি হলো অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের প্রথম পদক্ষেপ। মূলত জন্মনিবন্ধন না থাকায় এনআইডি নিয়ে এমন জটিলতা হয় বলে অধিবেশনে জানানো হয়। গতকাল বুধবার এসডিজি সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন তিনি। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনের এ সম্মেলনের আয়োজন করে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিট।
সম্মেলনের শেষ দিনের প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান। এ ছাড়া সমাজের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
ড. দেবপ্রিয় আরও বললেন, প্রবৃদ্ধির হার কত হচ্ছে, শুধু তা দেখলে হবে না, কাঠামো ও গুণগত মান দেখতে হবে। সম্প্রতি দারিদ্র্য বিমোচনের গতি কমে গেছে, বেড়েছে বৈষম্য। বাস্তবতা হলো, প্রতি তিনজন শিক্ষিত ব্যক্তির মধ্যে একজন বেকার। এজন্য সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে নীতি প্রণয়ন করতে হবে।
অধিবেশনে মিরপুর মাজার রোড এলাকার বাসিন্দা ও ভ্যানচালক মো. ওয়াসিম বললেন, সেখানে অনেক ছিন্নমূল মানুষের এনআইডি নেই। তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর এনআইডি করতে সমস্যা হয় বলে জানিয়েছেন এই জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি রামিসা চৌধুরী। একইভাবে তরুণ সমাজের প্রতিনিধি সোহানুর রহমান বলেছেন, বরিশালের মান্তা সম্প্রদায়ের মানুষরা এনআইডি পাচ্ছেন না। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেছেন, এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১১০তম। হাতে সময় আছে পাঁচ বছরের কম। ফলে এখন দ্রুতগতিতে এগোতে হবে। সরকার সবার জন্য বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, আর্থিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বাস্তবায়িত হচ্ছে। সরকার সবার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে চায়।




